‘জেন জি-কে ভাগ করার চেষ্টা চলছে!’ যুবসমাজ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের

আজ বৃহস্পতিবার বারাণসীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেন জি (Gen Z) থেকে শুরু করে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। এদিন তরুণ প্রজন্মকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তরুণদের কেন জেন জি, জেন আলফা, বেটা বা গামা—এইসব ভাগে ভাগ করা হচ্ছে? এটা তাদের বিভক্ত করার একটি ষড়যন্ত্র। তরুণরা তো তরুণই; তাদের কোনো শ্রেণিতে ফেলা উচিত নয়। প্রজন্মগত পরিবর্তনের জন্য পরিবার, সমাজ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে যে এই নতুন প্রজন্ম নিজেদের প্রকাশ করতে জানে এবং আমাদের সকলেরই তাদের কথা শোনা উচিত।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে নিতিন নবীন বলেন, অতীতে দেশের যত প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই প্রথমে প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তী সময়ে সাংসদ হয়েছেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীই প্রথম এমন প্রধানমন্ত্রী, যিনি দেশের সাধারণ নাগরিক ও ভোটারদের ভোটে প্রথমে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে তারপর প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা কখনো দাবি করিনি যে আমরা সবকিছু ঠিকঠাক করেছি, কিন্তু আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।”

এএনআই (ANI)-এর সূত্র অনুযায়ী, বারাণসীতে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে নিতিন নবীন বলেন, “ভারতের যুবসমাজ দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। যারা বিভাজনের রাজনীতি করে, তাদের প্রতি আমার স্পষ্ট বার্তা হলো, যুবসমাজ বিভক্ত হবে না। যুবসমাজই দেশের শক্তি হয়ে উঠবে এবং ভারতের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, স্বাধীনতার আশি বছর পরেও ভারত একটি উন্নত দেশ হয়ে উঠতে পারেনি কারণ অতীতে দেশ ‘পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’র সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত ছিল। যে সরকার কেবল পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করে, তারা আদতে দীর্ঘমেয়াদী ভাবনা ভাবতে পারে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই ধ্যানধারণা সম্পূর্ণ বদলে ফেলে নীতি আয়োগ গঠন করেছেন, যার লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। আমেরিকা ১৮৮০ সালে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট’-এর স্বপ্ন দেখেছিল এবং চীনও যেভাবে নিজেদের বদলে ফেলেছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

অন্যদিকে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদ ও সমালোচনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি সভাপতি। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, রাহুল গান্ধীর যদি সত্যি সাহস থাকে, তবে তাঁর নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য কংগ্রেস নেতার মধ্যে ‘নৈরাজ্যবাদী মানসিকতা’ কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এদিন উত্তর প্রদেশ বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বারাণসীর ঐতিহাসিক কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দেন এবং কাশী বিশ্বনাথ করিডোরের পুনর্নির্মাণের ভূয়সী প্রশংসা করেন নিতিন নবীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *