‘সংবিধান লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টই শেষ কথা বলুক!’ নির্বাচন কমিশন বিতর্কে বিস্ফোরক মুরলি মনোহর যোশী

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক এবং রাজধানী দিল্লিতে দানা বাঁধা বিক্ষোভের আবহে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোগুলির সুরক্ষায় কড়া বার্তা দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা তথা পদ্মবিভূষণ সম্মানপ্রাপক ডঃ মুরলি মনোহর যোশী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, একটি সফল গণতন্ত্রের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে মূলত সুষ্ঠু নির্বাচন, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ আমলাতন্ত্রের ওপর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই মৌলিক নীতিগুলি কঠোরভাবে অনুসৃত হলেই তবে প্রকৃত অর্থে ‘জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে রাজনৈতিক তরজা তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে ডঃ যোশী বলেন, কোথাও যদি সংবিধান লঙ্ঘিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে তার যথাযথ সমাধান ও মীমাংসার দায়িত্ব একমাত্র সুপ্রিম কোর্টেরই নেওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন যে, দেশের গণতন্ত্রকে সবসময় সংবিধানের সুনির্দিষ্ট নীতি ও কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হতে হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR)-র মতো বিষয়গুলি নিয়ে বিরোধী দলগুলি যখন লাগাতার প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই মুরলি মনোহর যোশীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিরোধী ও ছাত্র আন্দোলন নিয়ে যোশীর স্পষ্ট বক্তব্য:
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়েও মুখ খুলেছেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। তাঁর মতে, বিরোধী দলগুলির যেমন প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, তেমনই তাদের আরও বেশি সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য তাদের নিজস্ব একটি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যেকোনো ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন বা রাজনৈতিক কর্মসূচি সবসময় সংবিধানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের জড়িয়ে পড়া এবং পরবর্তীতে পুলিশের অতিসক্রিয়তা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুরলি মনোহর যোশী অত্যন্ত সহানুভূতিশীল মনোভাব দেখিয়েছেন। পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি ও কথাগুলি সবসময় সহানুভূতির সঙ্গে শোনা উচিত। লাঠিচার্জ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। ছাত্রদের যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা সমস্যা থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত দমনপীড়ন না চালিয়ে তাঁদের উদ্বেগগুলি ধৈর্য ধরে শোনা এবং তার সঠিক প্রতিকার করা।