প্যাকেজড ওয়াটারের আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল কারবার! বীরভূমে কোটি টাকার নকল বিদেশি মদ উদ্ধার আবগারি দফতরের

প্রত্যন্ত গ্রামে পানীয় জলের প্ল্যান্টের আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল নকল বিদেশি মদ তৈরির এক বিশাল কারখানা। আবগারি দফতরের আচমকা হানায় উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকার নকল মদ ও আধুনিক বিদেশি যন্ত্রাংশ। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মুরারই থানার কান্ধা গ্রামের কাছে, যা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরারই থানার পলশা মোড় থেকে হরিশপুর যাওয়ার রাস্তায় কান্ধা গ্রামের আগে ফাঁকা জায়গায় মইজুদ্দিন সেখ নামের এক ব্যক্তির জমিতে এই প্ল্যান্টটি গড়ে উঠেছিল। আগে সেখানে একটি হাস্কিং মিল থাকলেও তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাসিক ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে কলকাতার এক ব্যবসায়ীকে জমিটি ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে পরিচ্ছন্ন পানীয় জল বা প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার তৈরির প্ল্যান্টের নাম করে এই অবৈধ কারবার ফেঁদে বসা হয়েছিল।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্ল্যান্টটি বেশিরভাগ সময় বন্ধই থাকত এবং রাতে মাঝে মাঝে কিছু লোকজনের আনাগোনা দেখা যেত। সাধারণ মানুষ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে জলের ব্যবসার আড়ালে এখানে কী চলছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার আবগারি দফতরের একটি বিশাল দল আচমকা সেখানে হানা দেয়। তল্লাশি চালিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮৪৬ পেটি (প্রতি পেটিতে ৪২ পাউচ) নকল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকারও বেশি।
তদন্তে নেমে অফিসাররা দেখেছেন, প্ল্যান্টের ভেতরে জল বোতলজাত করার যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির আধুনিক যন্ত্রপাতিও রয়েছে। এই যন্ত্রগুলোর মাধ্যমেই বিভিন্ন বিদেশি মদের কোম্পানির বোতলে নিখুঁতভাবে স্টিকার সাঁটানো এবং মুখ সিল করার কাজ চলত, যা দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে সেগুলি জাল। এই বিশাল চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোন কোন রাঘববোয়াল রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন আবগারি দফতরের আধিকারিকরা।