ডুরান্ডের মধুর বদলা নাকি জোড়া ট্রফির স্বপ্ন? আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মেগা লড়াইয়ে মুখোমুখি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল!

ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এবার মরশুমের দ্বিতীয় ট্রফি হিসেবে ‘আইএফএ শিল্ড’ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। বৃহস্পতিবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সিজন ডার্বিতে ফের মুখোমুখি হতে চলেছে দুই প্রধান। তবে এবার আর অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারের ওপর নির্ভর করতে নারাজ ইস্টবেঙ্গলের অভিজ্ঞ স্প্যানিশ কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস। সাংবাদিক বৈঠকে প্রতিপক্ষকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই খেলার ফয়সালা ঘটিয়ে ট্রফি ঘরে তুলতে চায় তাঁর দল।
আইএফএ শিল্ড ফাইনালে নামার আগে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী লাল-হলুদ শিবির। সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা। তাই হাবাসের কাছে ডুরান্ডের ফাইনাল এখন সম্পূর্ণ অতীত। সুসংগঠিত ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রেখে ৯০ মিনিটে ম্যাচ পকেটে পুরোটাই তাঁর মূল লক্ষ্য। জাতীয় শিবির থেকে আনোয়ার আলি, প্রভসুখন ও এডমুন্ড লালরিনডিকারা ফিরে আসায় এবং নতুন বিদেশিরা প্রথম ম্যাচেই নিজেদের ছন্দে থাকায় দলের গভীরতা নিয়েও তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত।
অন্যদিকে, ডুরান্ড ফাইনালে চার গোল হজম করার ক্ষত এখনও টাটকা রয়েছে মোহনবাগান শিবিরে। লাল-হলুদের সেই হারের বদলা এবার আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে নিতে মরিয়া সবুজ-মেরুন কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসি-কে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগের বর্তমান দুর্দান্ত ফর্মের কথা মাথায় না রেখে, নিজের দলের নিজস্ব পারফরম্যান্সের ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন বাগানের গ্রিক কোচ।
জাতীয় দল থেকে যোগ দেওয়া ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিক ধকল দুই কোচের জন্যই এক বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ম্যাচের ক্লান্তি ও অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে দুই কোচই শেষ মুহূর্তের অনুশীলনের পরই প্রথম একাদশ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একদিকে হাবাসের ৯০ মিনিটে ম্যাচ শেষ করে শিল্ড জয়ের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে দিমপেরিসের ডুরান্ড হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার মরিয়া সংকল্প—সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের এই হাইভোল্টেজ মহারণকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে তিলোত্তমার ফুটবলের পারদ।