‘আমাদের ওপর খুব ক্ষুব্ধ ওঁরা…’ কেবিসির মঞ্চে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন! কেন এমন বললেন বিগ বি?

বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন হয়তো নিজের পৈতৃক গ্রামে সশরীরে কদাচিৎ গিয়েছেন, কিন্তু জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি)-র মঞ্চে তাঁর শেকড় ও জন্মভূমির প্রতি টান এবং সুপ্ত আক্ষেপ ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। সম্প্রতি শোয়ের মঞ্চে প্রতাপগড়ের এক প্রতিযোগীর সঙ্গে আলাপচারিতার সময় নিজের পৈতৃক গ্রাম বাবুপট্টি এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন বিগ বি। একই সঙ্গে তিনি গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে এও জানিয়েছেন যে, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে শীঘ্রই সেই এলাকার লাইব্রেরিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
প্রতাপগড়ের পট্টি তহসিলের দাদওয়া মহোখারির বাসিন্দা চন্দ্র প্রকাশ তিওয়ারি যখন কেবিসি-র হট সিটে বসেন, তখনই কথোপকথনের মাঝে উঠে আসে বাবুপট্টির প্রসঙ্গ। আর এই নাম উঠতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অমিতাভ বচ্চন। তিনি বলেন, “এই জায়গাটা আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্মস্থান। বাবাজি (ডঃ হরিবংশ রায় বচ্চন) ওখান থেকেই এসেছেন। আমরা সেখানে কিছু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বাধার সম্মুখীন হয়েছি। সেখানকার মানুষ আমাদের ওপর খুব ক্ষুব্ধ। আমরা প্রতাপগড় ও বাবুপট্টির মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি।”
উল্লেখ্য, অমিতাভ বচ্চনের বাবা ডঃ হরিবংশ রায় বচ্চনের পৈতৃক গ্রাম হলো রানিগঞ্জ তহসিলের বাবুপট্টি। এই গ্রামে বচ্চন পরিবারের পৈতৃক জমি দান করা হয়েছিল এবং সেই জমিতেই একটি গ্রন্থাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০০৪ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত সি.এন. সিং তাঁর এমপি তহবিল থেকে এই লাইব্রেরি তৈরির জন্য ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন। এরপর ২০০৬ সালের ৫ মার্চ অভিনেত্রী জয়া বচ্চন এবং প্রয়াত রাজনীতিবিদ অমর সিং সশরীরে গ্রামটি পরিদর্শন করে এই ভবনটির উদ্বোধন করেন। সেই সময় জয়া বচ্চন মঞ্চ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, পুত্র অভিষেক বচ্চনের বিয়ের পর তিনি পুত্রবধূ ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এবং স্বামী অমিতাভকে সঙ্গে নিয়ে ফের গ্রামটি দেখতে আসবেন। এমনকি গ্রামে মেয়েদের জন্য একটি ডিগ্রি কলেজ খোলারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর কেটে গেলেও সেই লাইব্রেরিতে একটিও বই পৌঁছয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রশাসনিক ও পারিবারিক উদাসীনতায় আজ সেই ভবনটি সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভেঙে পড়েছে দরজা-জানালা, খসে পড়েছে দেওয়ালের পলেস্তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অমিতাভ বচ্চন কেবল কেবিসি-র মতো বড় মঞ্চেই তাঁদের গ্রামের কথা মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তবে এত বছর ধরে চলা অবহেলা ও জরাজীর্ণ দশা সত্ত্বেও বাবুপট্টির প্রবীণ থেকে শুরু করে যুবসমাজ—সবার মনেই মহাতারকার প্রতি আস্থা এখনও অটুট রয়েছে। গ্রামের এক বাসিন্দা হরিবংশ রায় বচ্চনের বিখ্যাত পঙক্তি উদ্ধৃত করে জানান যে, প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হওয়ায় তাঁদের মনে কিছুটা দুঃখ থাকলেও তাঁদের বিশ্বাস, সঠিক সময়ে অমিতাভ ঠিক তাঁদের গ্রামে ফিরে আসবেন। কেবিসি-র মঞ্চে বিগ বি-র দেওয়া এই নতুন প্রতিশ্রুতির পর এখন অধীর আগ্রহে সেই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করে আছেন বাবুপট্টির গ্রামবাসী।