বেসরকারি অ্যাপের দিন শেষ! এবার জনসংখ্যা বাড়াতে খোদ সরকারি ডেটিং প্ল্যাটফর্ম আনল কোন দেশ?

বর্তমান যুগে ডেটিং অ্যাপের ব্যবহার যে বহুগুণ বেড়েছে, সে বিষয়ে একমত বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে যেমন অনেকেই সাময়িক সম্পর্কের দিকে ঝুঁকছেন, তেমনই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের কথাও ভাবছেন অনেকে। তবে এতদিন এই ধরনের সমস্ত অ্যাপই ছিল বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তৈরি। কিন্তু এবার ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টে গেল। সাধারণ মানুষের সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং জনমিতির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবার খোদ সরকারের তরফেই অফিশিয়ালি লঞ্চ করা হলো একটি নতুন ডেটিং প্ল্যাটফর্ম!

কেন এই সরকারি উদ্যোগ?
মূলত সিঙ্গাপুরের ক্রমবর্ধমান কম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ও কম জন্মহারের সমস্যা মোকাবিলা করতেই সরকার এই অভিনব পদক্ষেপ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, সিঙ্গাপুরের বাসিন্দারা বর্তমানে বেশ দেরিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। সেখানকার পুরুষদের গড় বিয়ের বয়স যেখানে ৩১ বছর, সেখানে মহিলাদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২৯ বছর। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই সন্তান ধারণের ক্ষমতা ও সামগ্রিক জন্মহার মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংকট কাটাতে সিঙ্গাপুর সরকার ‘FirstDate’ নামের একটি নতুন ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছে। এই প্ল্যাটফর্মে ২১ বছর থেকে ৩৫ বছর বয়সি নাগরিকরা অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুরু করা হয়েছে। সরকারের তরফে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, এই অ্যাপের মাধ্যমে জোর করে বিয়েতে উদ্বুদ্ধ করা উদ্দেশ্য নয়, বরং সঠিক ও অর্থবহ যোগাযোগ স্থাপনই এর মূল লক্ষ্য।

কীভাবে কাজ করবে এই অ্যাপ?
অন্যান্য সাধারণ ডেটিং অ্যাপের মতোই এই প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে। শুরুতে ব্যবহারকারীকে নিজের পছন্দ, জীবনধারা (Lifestyle), শখ এবং কোন কোন বিষয়ে তাঁর আগ্রহ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাপটি উপযুক্ত বন্ধু বা সঙ্গীর সন্ধান দেবে। এমনকি ব্যবহারকারীরা আগামী দিনে সন্তান চান কি না, তাও এই অ্যাপের মাধ্যমে আগে থেকেই পরিষ্কার করতে পারবেন।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বিখ্যাত গণিতবিদ ডেভিড গেল ও লয়েড শ্যাপলের তৈরি বিশেষ অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে এই অ্যাপটি ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি ব্যবহারকারী একটি স্থিতিশীল সংযোগ বা স্টেবল কানেকশন খুঁজে পান। একে অপরের প্রোফাইল পছন্দ হলে ম্যাচ করার পর মাত্র ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন সময় পাবেন ব্যবহারকারীরা। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাঁদের একে অপরের সঙ্গে চ্যাট বা কথা বলা শুরু করতে হবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘FirstDate’ কোনো বেসরকারি সংস্থা তৈরি করেনি। সিঙ্গাপুর সরকারের নিজস্ব টেক এজেন্সির ওপর এটি তৈরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এটি সফলভাবে ব্যবহৃতও হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *