“ভাই হয়েও সাহায্য করেনি!” অনুপম খেরকে নিয়ে কেন এত ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ভাই রাজু খের?

বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা অনুপম খেরের ভাই রাজু খের সম্প্রতি এক পডকাস্টে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও ভাইয়ের কাছ থেকে সেই সময় সাহায্য না পাওয়ার আক্ষেপ এখনও তাঁর মনে তাজা। জীবনের নানা ওঠাপড়ার কথা বলতে গিয়ে রাজু জানান, একসময় তিনি শুধু তীব্র অর্থকষ্টেই পড়েননি, বরং আপন ভাই অনুপম খেরের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সাহায্য পাননি। সিদ্ধার্থ কান্নানের পডকাস্টে এসে তিনি এই সমস্ত গোপন কথা ফাঁস করেছেন।
রাজুর জীবনের সেই চরম বিপর্যয়ের দিনগুলো
একসময় রাজু খেরের জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। বড় বাড়ি, গোছানো পরিবার এবং সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ—সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। সেই সময় একটি নতুন টেলিভিশন চ্যানেল লঞ্চ হওয়ার খবর আসে এবং তার জন্য বেশ কিছু অনুষ্ঠান তৈরির কাজও শুরু হয়। রাজুর সঙ্গেও চুক্তি হয় এবং তিনি ‘Life Ke Liye Kuch Bhi Karega’ নামের একটি শো তৈরির কাজ শুরু করেন।
প্রজেক্ট সফল হবে এই আশায় এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজু নিজের বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করে সেই অনুষ্ঠানে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেন এবং একটি ছোট ফ্ল্যাটে শিফট করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সমস্ত হিসাব উল্টে যায়। কোনো রকম পূর্বভাস ছাড়াই চ্যানেলটি তাদের সিদ্ধান্ত বদলায় এবং প্রজেক্টটি বন্ধ হয়ে যায়। রাজুর বিনিয়োগ করা সমস্ত টাকা জলে যায়। শুরু হয় চরম আর্থিক সংকট এবং কাজ হারানোর হতাশা।
অনুপম খেরের ওপর অভিমানের শুরু যেভাবে
এই বিপদের দিনে রাজুর মনে হয়েছিল, তাঁর ভাই অনুপম খের নিশ্চয়ই তাঁর পাশে এসে দাঁড়াবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজুর দাবি, অনুপম চাইলেও তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। আর সেই না-পাওয়ার বেদনা থেকেই জন্ম নেয় তীব্র অভিমান। যদিও রাজু নিজেই পরবর্তীতে স্বীকার করেন যে, সেসময় অনুপমের হাতেও পর্যাপ্ত কাজ বা অতিরিক্ত অর্থ ছিল না। তবুও ভাইয়ের প্রতি এক ধরনের ক্ষোভ থেকেই গিয়েছিল যে, বিপদের দিনে কেন তিনি বাড়িয়ে দিলেন না সাহায্যের হাত?
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজুর সেই দৃষ্টিভঙ্গিতেও বদল এসেছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, একজন সফল অভিনেতা মানেই তাঁর জীবন সবসময় মসৃণ বা বিলাসিতায় ভরা থাকে না। তাই পরিস্থিতি হয়তো অনুপমের অনুকূলেও ছিল না। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দুই ভাইয়ের সুসম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এলেও, রাজুর এই পুরনো স্মৃতিচারণ এখন নেটদুনিয়ায় নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।