কানাডায় বড় রাজনৈতিক পট পরিবর্তন! এক দশক পর ক্ষমতায় ফিরে ফের স্বাধীনতার ডাক কোন দলের?

কানাডার ফরাসিভাষী প্রদেশ কুইবেকের প্রাদেশিক নির্বাচনে বিশাল জয় পেল বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ‘পার্টি কুইবেকোয়া’ (PQ)। এর ফলে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ফের ক্ষমতায় ফিরে এল দলটি এবং সেই সঙ্গে কানাডার জাতীয় রাজনীতিতে কুইবেকের স্বাধীনতার বিষয়টি ফের চলে এল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

পিকিউ নেতা পল সেন্ট-পিয়েরে প্লামনডন (Paul St-Pierre Plamondon) কুইবেকের পরবর্তী প্রিমিয়ার বা মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। দলটি কানাডা থেকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আরও একটি গণভোট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে পল সেন্ট-পিয়েরে জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরেই তাঁরা এই গণভোটের পথে হাঁটবেন।

এই জয়ের ফলে অবসান ঘটল মধ্য-ডানপন্থী ‘কোয়ালিশন অ্যাভেনিয়ার কুইবেক’ (CAQ)-এর আট বছরের শাসনের। উল্লেখ্য, সিএকিউ দল কুইবেকের স্বাধীনতার পক্ষে নয়। তবে ১২৭ আসন বিশিষ্ট কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬৪টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে পিকিউ। ফলে তাদের এবার সংখ্যালঘু সরকার হিসেবেই ক্ষমতা চালাতে হবে।

ফিরে এল স্বাধীনতা ও গণভোটের বিতর্ক
২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কুইবেক শাসন করা পার্টি কুইবেকের জন্য এই জয় এক ঐতিহাসিক কামব্যাক। ২০২২ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে দলটি মাত্র তিনটি আসন জিতেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় মানেই যে সাধারণ কুইবেকবাসীরা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে জোরালো সায় দিয়েছেন, বিষয়টি এমন নয়। ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বেল্যান্ড জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থন বর্তমানে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে, যা ঐতিহাসিক দিক থেকে বেশ কম। মূলত কুইবেকের খণ্ডিত বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফলেই পিকিউ জয়লাভ করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে কুইবেকে ১৯৮০ এবং ১৯৯৫ সালে দু’বার স্বাধীনতার ওপর গণভোট হয়েছিল, যেখানে দুই বারই ভোটাররা স্বাধীনতা বা পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে রায় দেননি। বিশেষ করে ১৯৯৫ সালের গণভোট অত্যন্ত অল্প ব্যবধানে হেরেছিল।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
কুইবেকের এই নির্বাচনী ফলাফল কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির (Mark Carney) সরকারের সামনে জাতীয় সংহতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং কানাডা সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্যের সঙ্গে যখন কেন্দ্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই রাজনৈতিক পরিবর্তন এল।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি নতুন কুইবেক সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, একটি শক্তিশালী কুইবেক গড়াই শক্তিশালী কানাডা গড়ার অংশ। মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শ্রমিকদের সুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে অটোয়া ও কুইবেক একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, কানাডা থেকে পৃথক হওয়ার বিষয়ে আলবার্টার নিজস্ব গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই কুইবেকের এই ফল সামনে এল। বিশ্লেষকদের মতে, এই জোড়া ঘটনা কানাডার জাতীয় অখণ্ডতাকে নতুন করে সংকটের মুখে ফেলতে পারে। তবে পল সেন্ট-পিয়েরে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গণভোট স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায়, এই মুহূর্তে অটোয়ার সঙ্গে কোনো বড় সাংবিধানিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা নেই। তা সত্ত্বেও, কুইবেকের সার্বভৌমত্বের দাবি কানাডার রাজনীতিকে দীর্ঘ সময় ধরে সরগরম রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *