গাজার বদলার প্রতিশোধ! ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই বিমান ধ্বংসের চেষ্টার নেপথ্যে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

ইজরায়েলগামী একটি ফ্লাইদুবাই (Flydubai) বিমান মাঝ আকাশে ধ্বংস করার চেষ্টার ঘটনায় ধৃত ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি (Hamam al-Hammami) জেরার মুখে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ইজরায়েলের ‘চ্যানেল ১২ নিউজ’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতেই সে এই নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে।

ইজরায়েলের নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক জেরার তথ্য শেয়ার করা হয়েছে। জেরায় আল-হাম্মামি তদন্তকারীদের সাফ জানিয়েছে, “গাজার প্রতিশোধ নিতেই আমি এই কাজ করেছি। আমি শাহিদ (শহীদ) হতে চেয়েছিলাম।”

তবে আল-হাম্মামি একাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কোনো জঙ্গি সংগঠনের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন ইজরায়েলি ও আমিরাতের গোয়েন্দারা। এই তদন্তে ইজরায়েলের শিন বেট (Shin Bet) নিরাপত্তা সংস্থাও যুক্ত রয়েছে বলে সেন্সর বোর্ডের অনুমোদনে প্রকাশ পেয়েছে।

বিমানকর্মীদের ভূমিকা ও মোবাইল ফোন তল্লাশি
ঘটনার দিন ফ্লাইদুবাই বিমানটিতে থাকা কেবিন ক্রু বা বিমানকর্মীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) কর্তৃপক্ষ। ইজরায়েলি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে কেবিন ক্রুর কোনো যোগসাজশ বা কো-পাইলটকে ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তার বিষয়টি খারিজ করে দিয়েছেন। ক্রু সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তাঁরা চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন এবং এই নাশকতার চেষ্টার সঙ্গে তাঁদের কোনো সংযোগ নেই।

আমিরশাহি এই ঘটনার তদন্তের রিপোর্ট ইজরায়েলকে দিলেও, ইজরায়েলি তদন্তকারীদের সরাসরি ক্রুদের জেরা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির যৌথ উদ্যোগে ধৃত কো-পাইলটের মোবাইল ফোনটি তন্ন তন্ন করে খাতা দেখছেন তদন্তকারীরা। ফোনটির ডেটা থেকে তার সাম্প্রতিক যোগাযোগ, গতিবিধি এবং কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সন্ধান মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইজরায়েল বিরোধী দেশগুলিতে যাতায়াত
তদন্তকারীরা বিগত কয়েক বছরে আল-হাম্মামির বিদেশ ভ্রমণ ও তার ব্যাকগ্রাউন্ডও খতিয়ে দেখছেন। ইজরায়েল বিরোধী বা শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলিতে সে সম্প্রতি যাতায়াত করেছিল কি না, তা নিয়ে চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি।

গত রবিবার ইজরায়েলের সিকিউরিটি ক্যাবিনেটের বৈঠকে মোসাদ (Mossad)-এর এক প্রতিনিধি এই তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট মন্ত্রীদের সামনে পেশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রের খবর অনুযায়ী, মোসাদ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, “আমরা জানতে পেরেছি বিগত কয়েক বছরে ওই অভিযুক্ত ইজরায়েল বিরোধী এবং শত্রুভাবাপন্ন কয়েকটি রাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত সফর করেছিল। সেগুলির নেপথ্যে কেউ তাকে রিক্রুট বা নির্দেশ দিয়েছিল কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।” আন্তর্জাতিক এই নিরাপত্তা সংকটের জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *