‘লড়াই নয়, মার্জিন বাড়াতেই ভোট!’ নন্দীগ্রামে বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কী বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ?

রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের দুই কেন্দ্র—রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই চড়েছে রাজনৈতিক পারদ। এর মাঝেই গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা তথা বিজেপি প্রার্থীর ভোটদান এবং তাঁর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা।
এদিন সকাল থেকেই দফায় দফায় বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন হাসিরানি দেবী। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে রেয়াপাড়ার শিবমন্দির ছাড়াও কালী মন্দির ও রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের দিন শুরু করেন তিনি। ভোটের ফল নিয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী সুর শোনা যায় তাঁর গলায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ঈশ্বরই যা করার তা করবেন। এখানে লড়াই কারও সঙ্গে কারও নয়। বিরোধীরা যাঁরা আছেন, তাঁরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছেন। আর আমরা লড়ছি জয়ের মার্জিন বাড়ানোর লক্ষ্যে।”
সংখ্যালঘু ভোটার ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে মন্তব্য
এদিনের ভোটগ্রহণের আবহে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন নিয়েও বড় দাবি করেছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, “সংখ্যালঘু ভোটাররা এবারে আমাদের সরকারের পক্ষেই আসবেন এবং আমাদের সম্পূর্ণ বিশ্বাস যে তাঁরা আমাদেরই ভোট দেবেন।”
পাশাপাশি, শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই আসন শুভেন্দু বাবুর ছেড়ে যাওয়া আসন। তিনি দুটি জায়গায় জিতেছিলেন, ফলে একটি আসন তো ছাড়তেই হতো। নন্দীগ্রাম তাঁর ভদ্রাসন এবং নন্দীগ্রামের জন্য তিনি সর্বদা পাশে রয়েছেন। যতদিন তাঁর অস্তিত্ব থাকবে, তিনি নন্দীগ্রামকে আগলে রাখবেন।”
প্রয়াত ছেলে চন্দ্রনাথ রথ প্রসঙ্গ
এদিনের নির্বাচন পর্বে স্বাভাবিকভাবেই বারবার উঠে আসে প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের প্রসঙ্গ। প্রয়াত নেতার মায়ের আবেগঘন কণ্ঠস্বরে ধরা পড়ে সিবিআই তদন্তের প্রতি অগাধ ভরসা। প্রয়াত ছেলের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু বাবু আমাদের অত্যন্ত মানবিক সাহায্য করেছেন। তিনি এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছেন। আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস, সঠিক তদন্ত হবে এবং আমরা বিচার পাব।”
সবমিলিয়ে, উপনির্বাচনের উত্তেজনার মাঝে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর এই মন্তব্য এবং বুথের অন্দরের ছবি এখন রাজনৈতিক মহলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।