ফেস রোলারের সামান্য ভুলেই মুখে ছড়াতে পারে মারাত্মক সংক্রমণ! অজান্তেই এই ভুলগুলো করছেন না তো?

পুজো আসতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। আর এই উৎসবের মরশুমের আগে ত্বক নিয়ে দুশ্চিন্তায় নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পার্লারে ফেসিয়াল থেকে শুরু করে বাড়িতে শিট মাস্কের ব্যবহার—সবকিছুই এখন দারুণ ট্রেন্ডে। আর এই বিউটি রুটিনে নতুন সংযোজন হয়েছে ‘ফেস রোলার’ (Face Roller), বিশেষ করে জেড রোলার (Jade Roller) এবং রোজ কোয়ার্টজ রোলার (Rose Quartz Roller)। ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের রিলসে বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের দাবি, রোজ সকালে এই ঠান্ডা পাথরের রোলার মুখে ঘষলেই নিমেষে মুখের ফোলাভাব কমে যায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ত্বক টানটান হয় এবং রাতারাতি জেল্লা ফিরে আসে। কিন্তু এই দাবির পেছনে কতটা সত্যতা রয়েছে? নাকি পুরোটাই স্রেফ একটি মার্কেটিং গিমিক? আসুন জেনে নেওয়া যাক, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে ঠিক কী বলছেন।

ফেস রোলারের আসল কাজ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেস রোলারের কিছু নির্দিষ্ট উপকারিতা অবশ্যই রয়েছে, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যতটা বাড়িয়ে বলা হয়, এটি ততটা জাদুকরি কিছু নয়। যখন আপনি ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা জেড রোলার মুখে ব্যবহার করেন, তখন এটি মুখের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। রক্ত চলাচল বাড়লে মুখের ফোলাভাব, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের নিচের ফোলাভাব অনেকটা কমে যায়। এ ছাড়া ঠান্ডা রোলারের সংস্পর্শে সাময়িকভাবে ত্বকের রোমকূপ বা পোরস ছোট দেখায় এবং ত্বক একটু টানটান লাগে। পাশাপাশি, আপনি যখন সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর তার উপর রোলার চালান, তখন সেই স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ত্বকের গভীরে সহজে প্রবেশ করতে পারে। এটুকুই এর মূল কাজ। ফেস রোলার কখনই আপনার মুখের বলিরেখা (Wrinkles) স্থায়ীভাবে দূর করতে পারে না বা জ-লাইন বা চোয়ালের গঠন বদলে দিতে পারে না।

যে ভুলগুলোর কারণে হিতে বিপরীত হতে পারে
উৎসবের আগে দ্রুত ফল পাওয়ার তাড়াহুড়োয় অনেকে ফেস রোলার ব্যবহারের সময় কিছু মারাত্মক ভুল করে ফেলেন, যার ফলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।

ব্রণের উপর ব্যবহার: অনেকেরই মুখে অ্যাক্টিভ ব্রণ বা অ্যাকনে থাকে, আর তার উপরই জোরে জোরে রোলার ঘষেন অনেকে। এর ফলে ব্রণ ফেটে গিয়ে ব্যাকটিরিয়া বা সংক্রমণ পুরো মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

সংবেদনশীল ত্বক: যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল (Sensitive Skin), তাঁরা বেশি চাপ দিয়ে রোলার ব্যবহার করলে ত্বকে লালচে ভাব, জ্বালা এবং র‍্যাশ বেরিয়ে যায়।

পরিচ্ছন্নতার অভাব: সবচেয়ে বড় ভুল হলো রোলার পরিষ্কার না করা। দিনের পর দিন একই রোলার না ধুয়ে ব্যবহার করলে তাতে ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়া ও ধুলোবালি জমে যায়, যা পরবর্তীতে নতুন করে ব্রণ সৃষ্টির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ফেস রোলার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
ত্বকের ক্ষতি না করে ফেস রোলারের সঠিক সুফল পেতে বিশেষজ্ঞদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত:

ফেস রোলার সবসময় সাধারণ ফ্রিজে রাখুন, ভুলেও ডিপ ফ্রিজে রাখবেন না।

ব্যবহারের আগে এবং পরে অবশ্যই অ্যালকোহল ওয়াইপ বা হালকা গরম জল ও সাবান দিয়ে রোলার পরিষ্কার করে নিন।

শুকনো মুখে কখনই রোলার চালাবেন না। মুখে সবসময় ভালো মানের সিরাম, ফেস অয়েল বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে তবেই এটি ব্যবহার করুন।

রোলার সবসময় নিচ থেকে উপরের দিকে এবং ভেতর থেকে বাইরের দিকে খুব আলতো হাতে ঘোরাতে হবে। কখনই অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবেন না।

দিনে একবার, মাত্র দুই থেকে তিন মিনিট ব্যবহার করাই যথেষ্ট। আর মুখে অ্যাক্টিভ ব্রণ বা ফুসকুড়ি থাকলে সেই সময় ফেস রোলার ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন।

শেষ কথা
তাই ফেস রোলারকে ম্যাজিক বা যাদুর কাঠি ভাবার কোনো কারণ নেই। এটি আপনার দৈনন্দিন স্কিন কেয়ার রুটিনে কেবল একটি আরামদায়ক অনুভূতি যোগ করতে পারে এবং সাময়িকভাবে মুখের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে পারফেক্ট ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের জন্য শুধুমাত্র রোলারের উপর অন্ধের মতো ভরসা করে থাকবেন না। পর্যাপ্ত ঘুম, সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল পান এবং সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারই পুজোর আগে আপনার ত্বকের আসল এবং প্রাকৃতিক গ্লো ফিরিয়ে আনবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *