“হাসপাতাল বিলের ১০ শতাংশ দিতে হবে!”-স্বাস্থ্যবিমার নতুন নিয়মে মাথায় হাত পড়তে চলেছে গ্রাহকদের?

স্বাস্থ্যবিমা বা হেলথ ইনসিওরেন্সের ক্ষেত্রে এবার বড়সড় বদল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পলিসিহোল্ডারদের এবার থেকে হাসপাতালে ভর্তির চিকিৎসা খরচের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হতে পারে। নন-লাইফ বিমা সংস্থাগুলির বিবেচনাধীন একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, বিমার আওতাভুক্ত থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার মোট খরচের ১০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাহককে নিজেই দিতে হতে পারে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই এটি কার্যকর হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতি ক্লেমে পলিসিহোল্ডারের নিজস্ব খরচের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। এর সুবাদে গ্রাহকদের বার্ষিক প্রিমিয়ামের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি জেনারেল ইনস্যুওরেন্স কাউন্সিলের বিবেচনাধীন রয়েছে।
১০ শতাংশ ‘কো-পেমেন্ট’ (Co-pay) বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?
প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে, গ্রাহকের যত টাকারই স্বাস্থ্যবিমা থাকুক না কেন, হাসপাতালের মোট বিলের ১০ শতাংশ তাঁকে নিজেই মেটাতে হবে। এই নিয়ম ক্যাশলেস চিকিৎসা এবং রিইম্বার্সমেন্ট— উভয় পদ্ধতির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এমনকি দুর্ঘটনাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তির খরচেও এই নিয়ম বলবৎ থাকবে।
-
হিসেবটি কেমন হবে?
ধরে নেওয়া যাক, কারও হাসপাতালে মোট বিল হলো ৫ লক্ষ টাকা। তবে তাঁকে নিজের পকেট থেকে ৫০ হাজার টাকা (১০%) দিতে হবে। আবার বিল যদি ৬০ লক্ষ টাকা হয়, তবে গ্রাহককে ৬ লক্ষ টাকা বহন করতে হবে।
রিটেল ইনডেমনিটি পলিসি, গ্রুপ পলিসির রিটেল অংশ এবং পোর্টেবিলিটি ব্যবসার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে আউটপেশেন্ট বা OPD চিকিৎসার খরচ এই প্রস্তাবের বাইরে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো রাইডার বা এন্ডোর্সমেন্টের মাধ্যমে এই ১০ শতাংশ কো-পেমেন্টের নিয়ম মকুব বা পরিবর্তন করা যাবে না। পাশাপাশি, এই ১০ শতাংশ খরচ অন্য কোনো বিমার মাধ্যমেও রিইম্বার্স করা যাবে না।
কেন এই নিয়ম চালুর ভাবনা?
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে চিকিৎসাকাজের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। শিল্পমহলের মতে, অনেক সময় গ্রাহকদের কাছে কম্প্রিহেনসিভ স্বাস্থ্যবিমা কভার থাকায় তাঁরা চিকিৎসার খরচ নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম সংবেদনশীল হন। ফলস্বরূপ, হাসপাতালগুলি অতিরিক্ত ডায়াগনস্টিক টেস্ট, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি বা হাসপাতালে থাকার মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়, যা ‘প্রোভাইডার-ইনডিউসড ডিমান্ড’ তৈরি করে। সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপের কথা চিন্তা করছে বিমা নিয়ন্ত্রকরা।