স্ক্রিনে দেখাচ্ছে ১০০ ডলার, অথচ আসল দাম ১৪৫ ডলার! অপরিশোধিত তেলের এই বিরাট কারচুপি নিয়ে বড় ফাঁস!

বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এবং তার জেরে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এর প্রভাবেই বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিও হু হু করে বাড়ছে। তবে কোটাক সিকিউরিটিজের (Kotak Securities) একটি সাম্প্রতিক বিস্ফোরক প্রতিবেদন সামনে আসার পর তেলের বাজার নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ক্রিনে বা রিপোর্টে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার দেখানো হলেও, বাস্তবে তার আসল দাম ঠেকছে প্রায় ১৪৫ ডলারে! কিন্তু স্ক্রিনের দাম আর বাজারের প্রকৃত দামের মধ্যে এই প্রায় ৪৫ ডলারের বিশাল ফারাক তৈরি হওয়ার আসল রহস্যটা কী?

পরিবহন খরচই মূল সমস্যা: কোটাক সিকিউরিটিজের বিশ্লেষণ
কোটাক সিকিউরিটিজের কমোডিটিজ রিসার্চের প্রধান অনিন্দ্য ব্যানার্জী জানিয়েছেন যে, ক্রমবর্ধমান পরিবহন খরচের কারণে অপরিশোধিত তেলের প্রকৃত মূল্য বেঞ্চমার্ক হারের চেয়ে অনেকটাই বেশি হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান তেলের বাজার অত্যন্ত জটিল এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তাঁর কথায়, “ভিএলসিসি (VLCC) মালবাহী ভাড়ার খরচ ১০ লক্ষ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে প্রতি ব্যারেলে পরিবহন খরচ প্রায় ২৫ ডলার বা তার বেশি বেড়ে গেছে। এই কারণেই ১০০ ডলারের স্ক্রিন প্রাইস বাস্তব বাজারে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় ১৪৫ ডলারে।” অর্থাৎ, স্ক্রিনে প্রদর্শিত দামটি একপ্রকার ‘ভার্চুয়াল দাম’, অথচ যে প্রকৃত দামে তেল কেনাবেচা হয়, তার ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।

যুদ্ধের প্রভাব ও তেলের বাজার
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান তেলের বাজার একটি উল্লেখযোগ্য প্রিমিয়ামের ওপর চলছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের চেয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অপরিশোধিত তেলের বাজারের ওপর অনেক বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্বজুড়ে শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ভারতের অবস্থান কি সুরক্ষিত?
এতসব বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বেশ অনুকূল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনিন্দ্য ব্যানার্জীর মতে, ভারত যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ ভারতের কাছে যেমন সুনিশ্চিত তেলের সরবরাহ রয়েছে, তেমনই পরিশোধিত পণ্য রপ্তানি করার মতো পর্যাপ্ত পরিশোধন ক্ষমতাও রয়েছে। ফলস্বরূপ, বিশ্ববাজারে জ্বালানির বড় সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে ভারত। বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হঠাৎ চড়লেও ভারতের অতিরিক্ত পরিশোধন ক্ষমতা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমাদানি করার বহুমুখী সক্ষমতা দেশের বাজারকে বড় ধরনের ঘাটতি থেকে রক্ষা করছে।

সোনা-রুপোর দাম এবং সুদের হার নিয়ে পূর্বাভাস
প্রতিবেদনে মূল্যবান ধাতু ও সুদের হার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থাকা পর্যন্ত সোনা ও রূপার দাম রাতারাতি আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC)-র বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তারল্য (লিকুইডিটি) থাকায় সুদের হার কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। আগামী দিনে তেলের দামের প্রবণতা এবং মুদ্রাস্ফীতির গতির ওপর ভিত্তি করেই বিশ্ব অর্থনীতির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *