যন্তর মন্তরে মহিলা সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ! পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় ধুন্ধুমার কাণ্ড, উত্তাল রাজধানী

যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন তিনজন নারী সাংবাদিককে পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। শনিবারের ওই ঘটনার পর থেকেই চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সোমবারও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বিক্ষোভকারীরা। শনিবার রাত ও রবিবার সারাদিনের বিক্ষোভের পর সোমবার পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?
বিক্ষোভকারীদের প্রধান প্রশ্ন হলো, একজন নারী যখন খোদ একজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনছেন, তখন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কেন সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে না? আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঘটনার দিনই তাঁরা থানায় গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার আবেদন করলেও তাঁদের ২৪ ঘণ্টা পর আসার কথা বলা হয়।

আটক হওয়া এক বিক্ষোভকারী চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে জানান যে, হেনস্থায় অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এর আগেও গত জুলাই মাসে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সেই প্রথম অভিযোগের বিষয়ে কোনো যথাযথ তদন্তই করা হয়নি এবং বর্তমান ঘটনাটিকেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছিলেন যে, বিক্ষোভস্থলে কোনো নারী পুলিশ কর্মী না থাকার প্রতিবাদ করায় এক সহকারী কমিশনার (ACP) তাঁকে যৌন হেনস্তা করেন।

ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তদন্তভার ও নিরাপত্তা আঁটসাঁট
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার সকাল থেকেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা চত্বর কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়। বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ ঠেকাতে থানার চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আন্দোলনকারী আইনজীবী ও বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ, প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখার অজুহাতে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করতে দীর্ঘসূত্রিতা করছে, যা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থী।

এদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের অফিসিয়াল এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগের সংবেদনশীলতা বিচার করে সমগ্র মামলাটি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের (Crime Branch) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের রেকর্ড করা ভিডিও এবং কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের থেকেও বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *