সোনা কেনার সুবর্ণ সুযোগ নাকি বিরাট ফাঁদ? পুজোর মুখে সোনার দাম কমতেই বাজারে শুরু হলো শোরগোল!

সোনাপ্রেমীদের জন্য এল বড় আপডেট। ‘স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটি’ (Swarn Shilpa Bachao Committee বা SSBC)-র প্রকাশিত রেট কার্ড অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর, এই দুই দিনের মধ্যে সোনার দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। তবে সোনা সস্তা হলেও, উলটো ছবি দেখা গেছে রুপোর বাজারে। এই কদিনে হু হু করে চড়েছে রুপোর দর। ফলে উৎসবের মরসুমে সোনা কেনার পরিকল্পনা করার আগে লেটেস্ট রেট সম্পর্কে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কোন সোনাতে কত কমল দাম?
এসএসবিসি-র তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ফাইন গোল্ড বা ৯৯৫ বিশুদ্ধতার সোনার দাম ছিল প্রতি গ্রাম ১৪,৭০৪ টাকা। ৫ অক্টোবর একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্রাম ১৪,৬৯৪ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি গ্রামে ১০ টাকা এবং ১০ গ্রামে মোট ১০০ টাকা পতন হয়েছে।
পাশাপাশি, মধ্যবিত্তের সবচেয়ে পছন্দের ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা গেছে। ৩ অক্টোবর যেখানে ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রামের বিক্রয়মূল্য ছিল ১৩,৯৭০ টাকা, ৫ অক্টোবর তা কমে হয়েছে ১৩,৯৬০ টাকা (প্রতি গ্রামে ১০ টাকা হ্রাস)। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের বাইয়িং রেট প্রতি গ্রামে ১৩,৩৮০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৩,৩৭১ টাকা (৯ টাকা পতন)। এমনকি পিছিয়ে নেই ১৮ ক্যারেট বা ৭৫০ বিশুদ্ধতার সোনাও। ৩ অক্টোবর এই সোনা প্রতি গ্রাম ১১,৪৭০ টাকা থাকলেও ৫ অক্টোবর তা কমে হয়েছে ১১,৪৬০ টাকা।
তবে উল্টো ছবি রুপোর বাজারে!
সোনার দর সামান্য কমলেও গত দুই দিনে বেশ খানিকটা চড়েছে রুপোর দাম। এসএসবিসি-র রেটকার্ড বলছে, ৩ অক্টোবর ৯৯৯ বিশুদ্ধতার ১ কেজি রুপোর দাম ছিল ২,২৪,০৫৬ টাকা। ৫ অক্টোবর তা বেড়ে সোজা গিয়ে ঠেকেছে ২,২৪,৮৯১ টাকায়। অর্থাৎ এক ধাক্কায় এক কেজি রুপোর দাম বেড়েছে ৮৩৫ টাকা, যার শতাংশের হিসেবে বৃদ্ধি প্রায় ০.৩৭%।
বিশেষ দ্রষ্টব্য হলো, এসএসবিসি-র এই রেটগুলি সম্পূর্ণভাবে ৩% জিএসটি (GST) বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দোকান থেকে যখন আপনি আসল গয়না কিনতে যাবেন, তখন চূড়ান্ত বিলের পরিমাণ এর থেকে কিছুটা বেশি হবে। সিবিআইসি (CBIC)-এর নিয়ম অনুযায়ী, গয়না বিক্রির ক্ষেত্রে মোট ট্রানজাকশন ভ্যালুর ওপর ৩% হারে জিএসটি প্রযোজ্য।
এখনই সোনা কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই দিনের হিসেবে সোনার দাম কমলেও সেই পতনের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। ২২ ক্যারেট সোনায় প্রতি গ্রামে মাত্র ১০ টাকা কমার অর্থ হলো ১০ গ্রামে সাকুল্যে ১০০ টাকার সাশ্রয়। তাই শুধু এই দু’দিনের ট্রেন্ড দেখে বড় কোনো কেনাকাটার সিদ্ধান্ত না নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার-রুপির বিনিময় হার এবং এমসিএক্স (MCX)-এর গতিবিধির ওপর নজর রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শহর ও স্থানীয় জুয়েলার্সের প্রিমিয়ামের কারণে কলকাতার খুচরো বাজারদর সামান্য আলাদা হতে পারে, তাই সোনা বা রুপো কেনার আগে বাজার যাচাই করে নেওয়াই শ্রেয়।