বিষাক্ত কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি! এভারেস্টের জিরে গুঁড়ো নিয়ে বড়সড় কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের

রান্নাঘরের অত্যন্ত পরিচিত মশলা জিরে গুঁড়ো নিয়ে বড়সড় এবং কড়া পদক্ষেপ নিল খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। ল্যাব টেস্টে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বা রেসিডিউ পাওয়ার পর বিখ্যাত ব্র্যান্ড Everest-এর প্রি-প্যাকড জিরে গুঁড়োর একটি নির্দিষ্ট ব্যাচকে সরাসরি ‘অসুরক্ষিত’ বা ‘UNSAFE’ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অবিলম্বে ওই নির্দিষ্ট ব্যাচের সমস্ত প্যাকেট বাজার থেকে তুলে নেওয়ার (Recall) নির্দেশ দিয়েছে এফএসএসএআই।
এভারেস্টের জিরে গুঁড়োয় কী পাওয়া গিয়েছে?
FSSAI-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোয়ার ‘রিভারসাইড রিসোর্টস অ্যান্ড হলিডে হোমস্ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর প্রাঙ্গণ থেকে এভারেস্টের প্রিপ্যাকড জিরে গুঁড়োর একটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ফুড অ্যানালিস্টের পরীক্ষাগারে সেই নমুনায় ‘অ্যাজোক্সিস্ট্রোবিন’ (Azoxystrobin) এবং ‘থিয়ামেথোক্সাম’ (Thiamethoxam)—এই দুই কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমার (MRL) চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
এরপর নিয়মমাফিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আপিলের সুযোগ দেওয়া হলে নমুনাটি ‘রেফারেল ফুড ল্যাবরেটরি’-তে পাঠানো হয়। সেখানেও দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় একই ফল আসে এবং কীটনাশকের মাত্রা বেশি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এর পরেই ওই নির্দিষ্ট ব্যাচটিকে (Batch No. E080668761) বাজার থেকে অবিলম্বে রিডল বা ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সংশোধামূলক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সমস্ত জিরে গুঁড়োই কি বিপজ্জনক?
না। এফএসএসএআই-এর এই নির্দেশ শুধুমাত্র Everest-এর একটি নির্দিষ্ট ব্যাচকে কেন্দ্র করেই দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ এই একেবারেই নয় যে বাজারে উপলব্ধ এভারেস্টের সমস্ত জিরে গুঁড়ো বা মশলা unsafe। তাই আতঙ্কিত না হয়ে গ্রাহকদের নিজেদের কেনা প্যাকেটের গায়ে থাকা ব্যাচ নম্বরটি (Batch Number) যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সুগার অ্যান্ড স্পাইস (The Sugarr & Spice)-এর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ
শুধু এভারেস্ট একা নয়, একই দিনে আরও একটি জনপ্রিয় খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে বড়সড় ব্যবস্থা নিয়েছে এফএসএসএআই। পূর্ব ভারতে ‘The Sugarr & Spice’ নামে রিটেল চেন পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ক্রিয়েটিভ বেকার্স অ্যান্ড কনফেকশনার্স প্রাইভেট লিমিটেড’-এর লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সংস্থার কারখানায় পরিদর্শনে গিয়ে চরম স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার অভাবের প্রমাণ মিলেছে। রান্না ও উপাদান সংরক্ষণের জায়গায় ময়লা, ধুলো, মাকড়সার জাল, মাছি এবং খোলা অবস্থায় পচনশীল কাঁচামাল পড়ে থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ:
আপনার ঘরে যদি এভারেস্টের প্রি-প্যাকড জিরে গুঁড়ো থেকে থাকে, তবে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাকেটের ব্যাচ নম্বরটি দেখে নিন। যদি সেটি নির্দিষ্ট ওই ত্রুটিপূর্ণ ব্যাচের সঙ্গে মিলে যায়, তবে তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এফএসএসএআই-এর এই কড়া নজরদারি সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।