মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে! আজই বড় মামলার শুনানি

নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সংঘাতের আবহে আজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক মামলার শুনানি হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁর পদত্যাগ দাবি করে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। আজ সেই জনস্বার্থ মামলারই শুনানি রয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং এবং আইনজীবী শৈলেন্দ্র মনি ত্রিপাঠী এই পিআইএল (PIL) বা জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলাকারীদের প্রধান অভিযোগসমূহ:
একক সিদ্ধান্ত বনাম যৌথ ক্ষমতা: আবেদনকারীদের মূল প্রশ্ন, কমিশনের তিন কমিশনারের সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার একাই সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সিইসি-কে বরখাস্ত করার আর্জিও জানানো হয়েছে।
ফর্ম ৬ বিতর্ক: ভোটার নিবন্ধনের ‘ফর্ম ৬’-এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পূর্বপুরুষের বিবরণ বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কোনও রকম বিধিবদ্ধ সংশোধন ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করাকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
সফটওয়্যার ত্রুটি ও পশ্চিমবঙ্গে আপিল বিতর্ক: গোয়ায় সফটওয়্যারজনিত ত্রুটির কারণে ৯৭ জন যোগ্য ভোটারের নাম পুনরুদ্ধার না হওয়ার প্রসঙ্গটি মামলায় তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে বিচারিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তালিকায় নাম বহাল হওয়া ভোটারদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের নামে ১৬ লক্ষেরও বেশি আপিল দায়ের করা নিয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, কমিশনের অন্য দুই কমিশনার বা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (CEO)—কেউই এই আপিল সম্পর্কে জানতেন না বা অনুমতি দেননি।
এই মামলায় কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক, নির্বাচন কমিশন, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু, বিবেক জোশী এবং কমিশনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক মণীশ গর্গকে পক্ষ করা হয়েছে। আজকের সুপ্রিম শুনানির দিকেই এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।