‘হিন্দুদের আক্রমণ করেছে,’ SRFTI-র অশান্তি নিয়ে চরম বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর!

কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এ রবিবারের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অশান্তি নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইনস্টিটিউটের গেটের সামনে ঘটে যাওয়া এই হিংসাত্মক ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি সরাসরি ‘অতিবাম’ এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তোপ দেগেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক জাগরণকে ভয় পেয়েই এই ধরনের পরিকল্পিত অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

SRFTI অশান্তি নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

রবিবারের এই ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে অতিবামেরা বারবার হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।”

তিনি আরও আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যাদের দুর্গাপুজোর কথা শুনলে কষ্ট হয়, যারা পুষ্পাঞ্জলি দেবেন না, মন্ত্রপাঠ বা আরতি করবেন না—এই তথাকথিত মাকুরা গত ৫০ বছর ধরে রাজ্যে এই সংস্কৃতি চালিয়ে এসেছে। ৩৪ বছর বাম জমানা আর ১৫ বছরের জামাতিকরণ—এই দুই পক্ষ আজ এক হয়ে গেছে। তারা আতঙ্কিত, কারণ আজ পশ্চিমবঙ্গে শুদ্ধ শাস্ত্র, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক জাগরণ তৈরি হচ্ছে। আর ঠিক সেই কারণেই তাদের যত আপত্তি।” উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় বিরোধীরা মার খাচ্ছে দাবি করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমি এক বছর পর কাজের হিসেব দেব। কিন্তু এরা তো ৩৪ বছর আর ১৫ বছরের কাজের কোনো হিসেব দিতে পারবে না।”

রবিবার ঠিক কী ঘটেছিল SRFTI-তে?

গত কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত রয়েছে SRFTI চত্বর। কিছুদিন আগেই ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে একটি অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছেঁড়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই রবিবার একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।

এদিন অজয়নগর মোড় থেকে হাতে গেরুয়া পতাকা ও ভারতমাতার ছবি নিয়ে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি SRFTI-র মূল গেটের সামনে পৌঁছতেই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা গেট ধরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে ইনস্টিটিউটের ভেতর থেকে পড়ুয়া ও শিক্ষকরাও জড়ো হন। এরপরই দুপক্ষের মধ্যে ইট ও জলের বোতল ছোঁড়াছুঁড়ির মতো ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের জেরে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর জখম হন অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা। ক্যাম্পাসের এই অশান্তি ও উত্তেজনার জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *