“ইরান ধ্বংস হয়ে গিয়েছে…” ট্রাম্পের বড় হুঙ্কার, হাতে অস্ত্র ধরলেন এবার নারীরা

ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ত্রিমুখী সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দীর্ঘ আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যেই রবিবার তেহরানের রাজপথে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেল। সম্ভাব্য স্থল হামলার (Ground Attack) আশঙ্কায় নিজেদের এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এবার সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিলেন ইরানের সাধারণ মহিলারা।
তেহরানে মহিলাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ
রবিবার তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম হোসেন স্কোয়ারে এই বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সেখানে সামরিক আধিকারিক ও অভিজ্ঞ ট্রেনারদের কড়া নিরাপত্তায় মহিলাদের হ্যান্ডগান সহ নানা ধরনের আধুনিক অস্ত্র চালানো শেখানো হয়। কীভাবে অস্ত্র ধরতে হবে এবং নিখুঁত নিশানা রাখতে হবে, তার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পাঠ নেন তাঁরা। এর ঠিক একদিন আগেই হাফতে তির স্কোয়ারে সাধারণ নাগরিকদের জন্য আরও একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলেছিল ইরান প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা বা ইজরায়েল যদি শেষ পর্যন্ত ইরানে কোনো স্থল আক্রমণ চালায়, তবে তার মোকাবিলায় দেশের সাধারণ নাগরিক এবং নারীদেরও আগে থেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যদিও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া একাধিক নারীর বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁদের লক্ষ্য কোনো আগ্রাসী যুদ্ধে অংশ নেওয়া নয়, বরং যুদ্ধের চরম পরিস্থিতিতে নিজের পরিবার ও প্রিয়জনদের রক্ষা করা।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী রাহেলে ঘাদিরি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে কীভাবে নিজের পরিবার ও এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে হয়, সেই কৌশলই আমি শিখছি। এই প্রশিক্ষণ আমার মনের ভয় অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে।”
ট্রাম্পের হুঙ্কার বনাম ইরানের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
এই যখন পরিস্থিতি, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে খুব শীঘ্রই এক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওহাইওতে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এখন একমাত্র প্রশ্ন হলো, এই সংঘাতের পরিণতি সহজ পথে হবে, নাকি কঠিন পথে।” নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
আমেরিকার এই হুমকিতে অবশ্য পিছু হটতে নারাজ তেহরান। ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেই কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই যুদ্ধ থামানো সম্ভব নয়। তাঁর সাফ কথা, “আমাদের শত্রুরা যদি ফের সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তবে আমাদের তরফ থেকে তার জবাব আরও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। দেশ রক্ষায় আমরা একচুলও পিছু হটব না।”
যুদ্ধের দামামার মাঝে কূটনৈমিতিক আলোচনার সমস্ত দরজাই যখন প্রায় বন্ধ, তখন মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।