‘সিসিটিভিতে কালো জ্যাকেট পরা কারা?’ নেপালে নিখোঁজ বাঙালি পর্যটকদের খোঁজ পেতে বিস্ফোরক পোস্ট শুভ্রাংশু রায়ের

গত ২৬ অগাস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ হয়ে যান বাংলার ৩২ জন পর্যটক। সেই মর্মান্তিক তালিকার মধ্যেই রয়েছেন রাজনৈতিক নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ও। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ পর্যটকদের কোনো সুনির্দিষ্ট খোঁজ মেলেনি। এই চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের আবহে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট করে একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন তুললেন শুভ্রাংশু রায়। নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের যন্ত্রণা তুলে ধরার পাশাপাশি, ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নেওয়ারও জোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ ও জিপিএস ট্র্যাকিং নিয়ে জোরালো সন্দেহ
ফেসবুক পোস্টে শুভ্রাংশু মূলত নেপাল ও তিব্বত-চিন সীমান্তের ইমিগ্রেশন সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ এবং পর্যটকদের বাসের জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, তিব্বত-চিন ইমিগ্রেশন সেন্টারে আচমকা বিপুল জলরাশি আছড়ে পড়ছে। এই ফুটেজটি উল্লেখ করে তাঁর প্রশ্ন, ওই ঘটনার ঠিক আগের এক ঘণ্টার ফুটেজ কেন প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না? তাঁর মতে, ক্যামেরার হার্ডওয়্যার নষ্ট হলেও ওয়েব-বেসড সার্ভারে আগের অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের রেকর্ডিং অবশ্যই থাকার কথা।
পাশাপাশি ফুটেজে দৃশ্যমান মানুষদের পোশাক নিয়ে বড়সড় সংশয় প্রকাশ করেছেন শুভ্রাংশু রায়। তিনি জানান, ওই সীমান্ত এলাকায় পর্যটকরা সাধারণত নীল, কমলা, লাল বা হলুদের মতো উজ্জ্বল ফ্লুরোসেন্ট জ্যাকেট পরে থাকেন। অথচ জলরাশি আছড়ে পড়ার সময় যাঁরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়চ্ছিলেন, তাঁদের গায়ে কালো জ্যাকেট বা পুলিশের উর্দি দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রশ্ন, তবে কি সেখানে আদৌ কোনো পর্যটক ছিলেন না? এছাড়া ইমিগ্রেশন সেন্টারে সকালের দিকে প্রবল ভিড় থাকলেও ফুটেজে মাত্র আড়াইশ মানুষকে দৌড়তে দেখা গিয়েছে। বাংলার ৩২ জন পর্যটক ইমিগ্রেশন পেরোনোর পর ঠিক কোন দিকে গিয়েছিলেন এবং তাঁরা বাসে উঠেছিলেন কি না, তার সঠিক উত্তর পেতেই নেপাল ইমিগ্রেশন সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তিনি।
বাসের লোকেশন ও চিনা ক্যাম্প নিয়ে প্রশ্ন
পর্যটকদের যাতায়াতের দায়িত্বে থাকা ভ্রমণ সংস্থার সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে নিখোঁজ হন তাঁরা। শুভ্রাংশুর দাবি, বর্তমান যুগের সমস্ত গাড়িতেই জিপিএস বা জিও ট্যাগ থাকে। পর্যটকরা যে বাসে ছিলেন, সেই বাসের নম্বর পেলে লোকেশন ট্র্যাক করে তার শেষ অবস্থান জানা সম্ভব। এছাড়া নেপাল ও তিব্বত ইমিগ্রেশন সেন্টারের মাঝের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তাতেও সিসি ক্যামেরা থাকার কথা। সেই ফুটেজ উদ্ধার হলেও বহু রহস্যের জট খুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
চিনের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, রসুয়াগড়ি এবং তিব্বত-চিন সীমান্তে বেশ কিছু উদ্ধারকারী ক্যাম্প রয়েছে, যেখানে বহু পর্যটক আটকে আছেন। এই প্রসঙ্গ টেনেই ভারত সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
কেন্দ্রের কাছে কূটনৈতিক চাপ ও গোয়েন্দা সাহায্যের আর্জি
শুধুমাত্র দূতাবাসগুলির মধ্যে চিঠি চালাচালি করে যে নিখোঁজদের সঠিক তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়ে শুভ্রাংশু পোস্টে লিখেছেন, “আপনারা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে নেপাল ও চিনের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করলে নিখোঁজ ৩২ জন পর্যটকের অসহায় পরিবার-পরিজন একটু সুরাহা পেতে পারে।” ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তিনি ভারতের গুপ্তচর সংস্থার সাহায্য নেওয়ারও জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো ৩২টি পরিবারের কথা ভেবে কেন্দ্র অবিলম্বে উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে—এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন শুভ্রাংশু রায়।