টাকা নেই তো কী হয়েছে! গ্যাসে টান পড়লেই এবার ঋণ দেবে ভারত পেট্রোলিয়াম, পেমেন্টের দারুণ নিয়ম জানলে চমকে উঠবেন

ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, বাড়ি কিংবা চার চাকার গাড়ির মতো এবার থেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার কেনার জন্যও ঋণ নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এমনকি সেই ঋণ পরিশোধ করা যাবে একেবারে সহজ মাসিক বা সাপ্তাহিক কিস্তির (EMI) মাধ্যমে। গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কমাতে দেশের অন্যতম প্রধান সরকারি তেল কোম্পানি ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) তাদের এলপিজি গ্রাহকদের জন্য এই অভিনব সুবিধাটি চালু করেছে। এর ফলে মাস শেষের দিকে হঠাৎ সিলিন্ডার ফুরিয়ে গেলে এককালীন পুরো টাকা মেটানোর দুশ্চিন্তা আর থাকবে না।

মাত্র ৬০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ ও কিস্তির সুবিধা
এশিয়ানেট নিউজ বাংলার (Asianetnews Bangla) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাড়িতে রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি নতুন সিলিন্ডার কেনার মতো পর্যাপ্ত নগদ টাকা হাতে না থাকে, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ভারত পেট্রোলিয়াম সম্প্রতি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে জানিয়েছে যে, গ্রাহকরা এলপিজি রিফিলের জন্য সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রো-লোন পেয়ে যাবেন। সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এই টাকা কোনো রকম অতিরিক্ত সুদ ছাড়াই একেবারে সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

কোম্পানির এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে গ্রাহকদের একবারে ৬০০ টাকা পকেট থেকে খরচ করতে হবে না। পরিবর্তে মাত্র ১০০ টাকা করে মোট ছয়টি সহজ সাপ্তাহিক কিস্তিতে পুরো ৬০০ টাকা পরিশোধ করার সুযোগ মিলবে। আধুনিক ফিনটেক ব্যবস্থার জনপ্রিয় ‘বাই নাও, পে লেটার’ (BNPL) বা ‘এখনই কিনুন, পরে পেমেন্ট করুন’ মডেলের আদলেই এই ক্ষুদ্রঋণ পরিষেবাটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনের সময় তাৎক্ষণিকভাবে এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল বুক করে নেওয়া যাবে এবং পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট ছোট ছোট কিস্তিতে তার বকেয়া টাকা মেটানো সম্ভব হবে।

কীভাবে মিলবে এই পরিষেবা?
ভারত পেট্রোলিয়ামের এই বিশেষ সুবিধাটি পেতে হলে গ্রাহকদের তাঁদের সংশ্লিষ্ট ভারত গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর বা পরিবেশকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডিস্ট্রিবিউটররাই এই পরিষেবা সংক্রান্ত যাবতীয় বিস্তারিত তথ্য যেমন—আপনার এলাকায় এই সুবিধাটি চালু রয়েছে কি না, কারা এর আসল উপভোক্তা বা যোগ্য এবং কীভাবে এর জন্য আবেদন করতে হবে—তা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেবেন। তবে তেল কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সুবিধা দেশের প্রতিটি এলাকায় বা সব গ্রাহকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য কি না, তা স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে আগেভাগে ভালোভাবে যাচাই বা নিশ্চিত করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মধ্যবিত্তের হেঁশেল সামলাতে এবং পকেটের চাপ কমাতে ভারত পেট্রোলিয়ামের এই নতুন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক বড় স্বস্তির পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *