কোরিয়ার ৪৪ বছরের সাম্রাজ্য ধূলিস্যাৎ! বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে এশিয়ান গেমসে অবিশ্বাস্য সোনা জয় ভারতের মেয়েদের

এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ইতিহাস গড়ল ভারত। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হারিয়ে মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে প্রথমবার সোনা জয়ের গৌরব অর্জন করল ভারতীয় দল। অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং কুমকুম মহোদের অনবদ্য ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ফাইনালে শক্তিশালী কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে পরাজিত করেছে ভারত। এর মাধ্যমেই মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে আন্তর্জাতিক পরিসরে কোরিয়ার টানা ৪৪ বছরের একাধিপত্য ও আধিপত্যের অবসান ঘটল।

ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াই ও নাটকীয় সমাপ্তি
ফাইনালের মঞ্চে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। প্রথম দুই সেটে দুই দলই সমান তালে লড়াই করে স্কোর ২-২ সমতায় রাখে। তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘুরে যায় তৃতীয় সেটে। কোরিয়ার ছ’টি তিরের মধ্যে চারটিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ৮-এ গিয়ে লাগে, আর বিপরীতে ঠান্ডা মাথায় দারুণ পারফর্ম করে ভারত ৫৫ স্কোর তুলে সেট জিতে নেয় এবং ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

শেষ সেটে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ৫৪ স্কোর করার পর ম্যাচ বাঁচাতে ভারতেরও অবিকল ৫৪ স্কোরই প্রয়োজন ছিল। সেই মুহূর্তে কীর্তি শর্মার ছোড়া একটি তীর নিয়ে সামান্য বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরবর্তীতে রিভিউয়ে সেটি ৮ থেকে বাড়িয়ে ৯ পয়েন্ট ঘোষণা করা হয়। আর এর ফলেই ভারতও ৫৪ স্কোরে পৌঁছে যায়। সেট ড্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের ঐতিহাসিক সোনার পদক। এর আগে সেমিফাইনালেও দুর্দান্ত ফর্ম দেখিয়ে চিনকে ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেছিলেন অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুম। চরম চাপের মুখেও তিন তিরন্দাজের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল এককথায় দেখার মতো।

তিন তিরন্দাজের সংগ্রামের অদম্য গল্প
এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে তিন জাদুকরী তিরন্দাজের সম্পূর্ণ আলাদা ও অনুপ্রেরণামূলক লড়াইয়ের গল্প। দলের অন্যতম সদস্য কুমকুম মহোদ মাত্র তিন বছর আগে রিকার্ভে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন, যাঁর কেরিয়ারের হাতেখড়ি হয়েছিল একেবারে আদিযুগের বাঁশের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ধনুক দিয়ে। অন্যদিকে, কীর্তি শর্মাকে একসময় শুনতে হয়েছিল যে রিকার্ভ ধনুক ধরার জন্য তাঁর শরীর নাকি বড্ড বেশি রোগা। তা সত্ত্বেও সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ তাঁরা বিশ্বজয় করেছেন।

পাশাপাশি, অভিজ্ঞ অঙ্কিতা ভকত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অন্যতম প্রধান ভরসা। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ২৩টি আন্তর্জাতিক পদক। গত হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে মহিলা রিকার্ভ দলের ব্রোঞ্জজয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বাকি দুই তরুণীর জেদ মিলেই এবার দেশকে এনে দিল সোনা। হাংঝৌতে কম্পাউন্ড তিরন্দাজদের সাফল্যের পর এবার রিকার্ভ বিভাগেও ভারতীয় মহিলারা যে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্টত্ব প্রমাণ করলেন, তা দেশের তিরন্দাজি ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায় হয়ে রইল। অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুমের এই অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার মিক্সড টিম এবং পুরুষ রিকার্ভ দলও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের জন্য আরও পদক জিতে আনতে বদ্ধপরিকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *