‘মোদীর কাছে দারুণ আইডিয়া আছে!’ ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে খোদ রুশ রাষ্ট্রপতির মুখে ভারতের ভূয়সী প্রশংসা

ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine War) থামাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও শান্তির প্রচেষ্টার খাস মুখে প্রশংসা করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের গভীর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদী যে নিয়মিতভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রশ্ন তুলেছেন এবং তা থামানোর জন্য তাঁর কাছে একাধিক ‘ভালো আইডিয়া’ রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন পুতিন।
পুতিনের মুখে মোদীর শান্তির বার্তা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সংঘাতের (Ukraine Conflict) একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার জন্য নরেন্দ্র মোদীর গভীর আগ্রহ ও আন্তরিকতা রয়েছে। তিনি জানান, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও তাঁর মূল ও একমাত্র লক্ষ্য হলো রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের অবসান ঘটানো। শান্তিপূর্ণ পথে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা মোদী প্রকাশ করেছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভারতের এই গঠনমূলক অবস্থানকে সরাসরি স্বীকৃতি দিয়েছেন।
কূটনৈতিক বৈঠক ও ভারতের ধারাবাহিক অবস্থান
প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) বৈঠকের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই বৈঠকে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে অবিলম্বে সংঘাতের অবসানের দিকে এগোতে হবে এবং স্থায়ী শান্তির জন্য বিশ্বজুড়ে নেওয়া সমস্ত উদ্যোগকে ভারত সবসময় সমর্থন করবে। এরপর সেপ্টেম্বরে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকেও দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, যেখানে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানই ভারতের মূল অবস্থান হিসেবে জোরালোভাবে উঠে আসে।
আগস্টের শেষদিকেও পুতিনকে মোদী স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ যত বেশি দীর্ঘায়িত হবে, মানবসভ্যতার জন্য তার মূল্য তত বেশি গুণ বৃদ্ধি পাবে। তাই ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ জিইয়ে না রেখে আলোচনার টেবিলে বসার তাগিদ দিয়েছিলেন তিনি। রাশিয়াও বরাবর জানিয়ে এসেছে যে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইউক্রেন সংকটের সমাধানের পক্ষে ভারতের এই প্রচেষ্টাকে তারা সম্মান করে এবং মস্কোও সেই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিজ নিজ যুদ্ধকালীন অবস্থানের মধ্যে এখনও যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মোদীর শান্তি উদ্যোগের প্রতি পুতিনের এই প্রকাশ্য স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।