স্ত্রীকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন স্বামী! ২০২২ সালের এক জোড়া খুনের রহস্য ফাঁস হতেই থমকে গেল পুলিশ

আহমেদাবাদ সিটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের তৎপরতায় উন্মোচিত হলো ২০২২ সালের এক লোমহর্ষক তিন খুনের চাঞ্চল্যকর রহস্য। স্ত্রীকে আইনি জালে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেলেন খোদ স্বামীই। দীর্ঘ জেরা ও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অবশেষে নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত দম্পতি। এই রোমহর্ষক ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তদন্তের সূত্রপাত যেভাবে
পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালে সুরাতের কোসাম্বায় বৃদ্ধা শান্তাবেন গম্ভীরভাই ভাসাভার নিখোঁজ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মাধবদাস ভক্তিরাম সাধু নামের এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট খবর দিয়ে দাবি করেন যে, তাঁর স্ত্রী উর্মিলা ও উর্মিলার এক আত্মীয় মিলে শান্তাবেনকে খুন করেছেন এবং সেই মৃতদেহ বাড়ির ভেতরেই পুঁতে রাখা হয়েছে। মাধবদাসের দেওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তৎক্ষণাৎ উর্মিলা ও ওই আত্মীয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

কিন্তু পুলিশের নিবিড় তদন্তে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, অভিযুক্তের সেই আত্মীয়ের সঙ্গে খুনের ঘটনার বিন্দুমাত্র কোনো যোগসূত্র নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এরপরই তদন্তকারী অফিসারদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে খোদ অভিযোগকারী মাধবদাসের ওপর। পুলিশি জেরার মুখে পড়ে বারবার নিজের বয়ান বদলাতে শুরু করেন মাধবদাস। তদন্তে এগোতেই পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার প্রায় আট মাস আগে থেকেই মাধবদাস এবং তাঁর স্ত্রী উর্মিলা আলাদা থাকতেন। উর্মিলা তাঁদের সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ঘর থেকে নগদ টাকা ও সোনার গয়নাও নিয়ে গিয়েছিলেন। মূলত সেই তীব্র ক্ষোভ এবং স্ত্রীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই স্ত্রীকে এই খুনে ফাঁসানোর এক নিখুঁত মিথ্যা ছক কষেছিলেন মাধবদাস।

জেরার মুখে একে একে ফাঁস তিন খুনের সত্যি
তদন্তকারীদের দীর্ঘ ও কড়া জেরার মুখে আর শেষরক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত মাধবদাস এবং তাঁর স্ত্রী উর্মিলা দুজনেই শান্তাবেনকে খুনের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। পুলিশের দাবি, ২০২২ সালে ওই বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে খুন করার পর তাঁর দেহটি একটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে সিমেন্ট দিয়ে সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই সিল করা ড্রামটি বাড়ির জমিতে গভীর গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলা হয়।

তবে এখানেই শেষ নয়! এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই বেরিয়ে আসে আরও দুটি ভয়াবহ খুনের লোমহর্ষক তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, ওই একই বছরে অভিযুক্ত এই দম্পতি আরও দুজনকে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছিল।

প্রথম ঘটনা: মাধবদাসের নিজের মা মঞ্জুলাবেন ভক্তিরাম সাধু ছিলেন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। তাঁর নিয়মিত বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হতো। সেই অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার ঝঞ্ঝাট ও দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতেই অভিযুক্ত দম্পতি তাঁকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে বলে পুলিশের জেরায় উঠে এসেছে। এরপর অত্যন্ত সুকৌশলে তাঁর দেহ দাহ করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ঘটনা: এই দম্পতির দ্বিতীয় শিকার হন উর্মিলার বোন এবং শান্তাবেনের নাতনি ভগবতীবেন কমলেশভাই ভাসাভা। তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং অভিযুক্ত দম্পতির সঙ্গেই একই বাড়িতে বসবাস করতেন। নগদ টাকা, বহুমূল্য গয়না এবং পরিবারের সমস্ত সম্পত্তির একচ্ছত্র দখল পাওয়ার লোভে তাঁকেও একইভাবে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ এবং মৃতদেহ পুঁতে রাখার নির্দিষ্ট স্থানগুলি চিহ্নিত করতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বিশেষজ্ঞ ফরেন্সিক টিমকে। একসঙ্গে তিনটি খুনের এমন নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *