এআই নিয়ে কড়া বিধিনিষেধের দিন শেষ! নিজেই নিজের প্রযুক্তির দেখভাল করবে টেক জায়ান্টরা, হোয়াইট হাউসের মেগা চুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর লাগাম টেনে ধরার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের প্রধান এআই কোম্পানিগুলি নিজেরাই নিজেদের প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সুরক্ষা তদারকি করার এক বিশেষ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই বড় ঘোষণা করেন তিনি। ট্রাম্পের সাফ কথা, আমেরিকা এআই-এর গতি কোনোভাবেই থামাতে চায় না; বরং এই বিপ্লবে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব বজায় রাখাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

কেন এআই-এর গতি রোধ করতে নারাজ ট্রাম্প?
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করার বা এই শিল্পের ওপর অতিরিক্ত কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা ও কড়া বিধি নিষেধ চাপানোর পক্ষে নয়। ট্রাম্প একে শিল্প বিপ্লবের চেয়েও বড় এক পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেছেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম পরিবর্তন করে একে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা পরা-মেধা হিসেবে নামকরণের চিন্তাভাবনাও চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি, কারণ তাঁর মতে এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা কৃত্রিম শব্দটি ব্যবহার করা অনুচিত। যদিও অন্যদিকে এআই এজেন্টদের নিজেদের ইচ্ছায় কাজ করার প্রবণতা এবং অনভিপ্রেত আচরণ নিয়ে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রোপিকের মতো সংস্থাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে।

হোয়াইট হাউসের মেগা বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন?
ট্রাম্পের ডাকা এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রযুক্তিমহলের প্রায় সব হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বরাই উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন হাউস স্পিকার মাইক জনসন। এছাড়াও ছিলেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও ডারিও আমোডি, ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, এবং এক্স-এর প্রধান এলন মাস্ক। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলাও এই বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে বসার আসনের বিন্যাসও শেয়ার করেছেন।

কী রয়েছে এই ‘স্ব-নিয়ন্ত্রণ’ চুক্তিতে?
হোয়াইট হাউসের বৈঠকে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি প্রযুক্তি কোম্পানি নিরাপদ উপায়ে তাদের এআই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে দায়বদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখাও তাদের দায়িত্ব। এই লক্ষ্য পূরণে কোম্পানিগুলিকে নিজস্ব অভ্যন্তরেই উন্নত নিরীক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান করবে। এই সম্পূর্ণ সুরক্ষা কাঠামো খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন এবং স্বাধীন বোর্ড কমিটির মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে।

নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি:
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিটিকে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ (morally binding) বলে অভিহিত করেছেন। এর সহজ অর্থ হলো, কোম্পানিগুলি স্বেচ্ছায় নিজেদের সুরক্ষা ও দায়িত্ব নেওয়ার এই অঙ্গীকার করেছে, যা কোনো কঠোর আইনি সরকারি প্রবিধান নয়। হোয়াইট হাউসের এই ঐতিহাসিক বৈঠকে ট্রাম্পের পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিক, গুগল, মেটা, ওপেনএআই, এনভিডিয়া এবং এক্সএআই-এর শীর্ষ প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় সরকারি কড়াকড়ির বদলে টেক জায়ান্টদের পারস্পরিক আস্থার এই স্ব-নিয়ন্ত্রণ নীতি আগামী দিনে বিশ্ব প্রযুক্তির মোড় ঘুরিয়ে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *