বিনা পয়সায় প্রফেশনাল ট্রেনিং ও মিলবে সরকারি সার্টিফিকেট! বেকারত্ব দূর করতে বড় সুযোগ আনল কেন্দ্র, আপনি কি আবেদন করেছেন?

দেশের যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ বাড়াতে কেন্দ্রের তরফে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রকের (MSDE) অধীনে পরিচালিত অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা’ (PMKVY)-র মাধ্যমে দেশের তরুণ-তরুণীদের বিনামূল্যে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের হাত ধরে ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন।
বর্তমান শিল্পক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবসমাজকে উপযুক্ত করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সূচনা করা এই ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রথাগত কাজের প্রশিক্ষণ মিলছে, তেমনই অন্যদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর।
কী ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে? PMKVY প্রকল্পের অধীনে মূলত তিন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে:
-
স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ (Short-Term Training): স্কুল বা কলেজছুট এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ৩০০ থেকে ৬০০ ঘণ্টার এই বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে কাজের জায়গায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও থাকে।
-
পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি (RPL): প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও যাঁদের নির্দিষ্ট কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের সেই দক্ষতার মূল্যায়ন ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
-
বিশেষ প্রকল্প (Special Projects): কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বা সংশোধনাগারের মতো বিশেষ পরিবেশে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়।
আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর: বর্তমান যুগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এই প্রকল্পের সিলেবাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, থ্রি ডি প্রিন্টিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত চাহিদাপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং পরিবেশবান্ধব শক্তি পরিকাঠামোর মতো উদীয়মান সেক্টরেও যুবকদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।
কী কী সুবিধা পাবেন প্রার্থীরা? এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন এবং সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না। প্রশিক্ষণ শেষে সফল প্রার্থীরা ‘স্কিল ইন্ডিয়া ডিজিটাল হাব’-এর আনুষ্ঠানিক শংসাপত্র পান। এছাড়া মহিলা ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের যাতায়াত বা থাকার জন্য আর্থিক সহায়তা, ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনাজনিত বিমা সুরক্ষা এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়।
কারা আবেদন করতে পারবেন? সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যে কোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বেকার যুবক-যুবতী এবং পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া শিক্ষার্থীরা এতে অগ্রাধিকার পান। আগ্রহী প্রার্থীরা অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে নিকটবর্তী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।