নীতীশ কুমারকে নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেই চরম সংঘাত! সনিয়া গান্ধীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল!

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) সাম্প্রতিক একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এনডিএ জোটের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা নীতীশ কুমারকে ঘিরে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র মতভেদ। ২০২৪ সালে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট ছেড়ে নীতীশ কুমারের আচমকা বেরিয়ে যাওয়া এবং এনডিএ শিবিরে যোগদানের বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের দুই প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে কার্যত তর্কাতর্কি বেঁধে যায়। একদিকে যখন মধ্যপ্রদেশের অভিজ্ঞ নেতা দিগ্বিজয় সিং নীতীশের প্রস্থানে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, ঠিক উল্টো সুরে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে নীতীশ সময়মতো দল ছেড়ে চলে যাওয়ায় দলের উপকারই হয়েছে।
সনিয়া ও দিগ্বিজয়ের মুখোমুখি তর্ক
বৈঠকে মূলত রাজনৈতিক কৌশল এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং মন্তব্য করেন যে, নীতীশ কুমারকে কোনোভাবেই ‘ইন্ডিয়া’ জোট ছেড়ে যেতে দেওয়া উচিত হয়নি। তাঁর দাবি ছিল, নীতীশ যদি জোটে থেকে যেতেন, তবে আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম হতে পারত।
দিগ্বিজয়ের এই যুক্তি বা আক্ষেপ একবিন্দুও মেনে নেননি সোনিয়া গান্ধী। তাঁর মত সরাসরি খারিজ করে দিয়ে সোনিয়া সাফ জানিয়ে দেন, “ভগবানের অশেষ কৃপা যে নীতীশ সময়মতো জোট ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। ওঁর তো শেষ পর্যন্ত ওখানেই (বিজেপির দিকে) যাওয়ার কথা ছিল।” শুধু তাই নয়, নীতীশকে তীব্র আক্রমণ করে সোনিয়া অভিযোগ করেন যে, তিনি জোট ছাড়ার জন্য বরাবরই কোনো না কোনো ছুতো খুঁজছিলেন এবং শুরু থেকেই পর্দার আড়াল থেকে তাঁকে বিজেপি নিয়ন্ত্রণ করছিল।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাঝেই অন্দরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
এদিকে, ওই একই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত জোরালোভাবে সরব হয়েছে কংগ্রেস। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইস্তফাও দাবি করেছে দল।
কিন্তু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই সম্মিলিত রাজনৈতিক প্রতিবাদের আবহের মাঝেই নীতীশ কুমারের অতীত ভূমিকা নিয়ে সোনিয়া গান্ধী ও দিগ্বিজয় সিংয়ের এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ভিন্ন সুরকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে যেখানে সমস্ত শরিককে এক ছাতার তলায় রাখার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময় নীতীশের প্রস্থান নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিপরীত অবস্থান কংগ্রেসের অন্দরেই নতুন করে রাজনৈতিক গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।