পথকুকুরদের খাওয়ানো নিয়ে চরম অশান্তি এড়াতে বিরাট পদক্ষেপ রাজ্যের! এবার চালু হচ্ছে কোন কড়া নিয়ম?

পথপুকুরদের খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পাড়ায় বা আবাসনে অশান্তি ও বচসার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এই বিরোধ অনেক সময় এতদূর গড়ায় যে তা থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। আর এই সমস্ত অনভিপ্রেত ঝামেলা চিরতরে রুখতে এবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বিশেষ মানবিক ও কড়া উদ্যোগ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। খুব শীঘ্রই কলকাতা, হাওড়া, সল্টলেক ও চন্দননগর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় পথপুকুরদের খাওয়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট স্পট বা জায়গা চিহ্নিত করা হবে। ওই নির্দিষ্ট স্থানগুলিতে পশুবন্ধুদের জন্য খাবার ও জলের পাত্রের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ও একাধিক পশুপ্রেমী সংগঠনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ প্রস্তাব জমা পড়ার পরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

নির্দিষ্ট স্পট ও পরিচয়পত্র: কী জানাচ্ছে প্রশাসন?
নিজেকে একজন পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাস্তায় নির্বিচারে পশুদের খাবার দেওয়ার দিন এবার শেষ হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার পাশাপাশি যারা খাবার দিতে আসবেন, সেই সমস্ত পশুপ্রেমী বা স্বেচ্ছাসেবকদের সরকারিভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এছাড়া পথপুকুরদের খাওয়ানোর পর সংশ্লিষ্ট জায়গাটি যেন কোনোভাবেই নোংরা না হয় এবং তা সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, সেই দায়িত্বও খাবার দিতে আসা ব্যক্তি বা সংগঠনকেই নিতে হবে।

পুরমন্ত্রী আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যাতে আর কোনোভাবেই বিবাদ না বাঁধে, তার জন্য স্থানীয় পুরসভা ও থানা-প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই এই খাওয়ানোর স্পটগুলি চূড়ান্ত করা হবে। রাস্তার মোড়ে নির্দিষ্ট সাইনবোর্ড বা বোর্ড লাগিয়ে সেই স্পটের তালিকা ফাইনাল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকেও সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

টিকাকরণ ও সরকারি ভাবনা
নির্দিষ্ট কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে ওই নির্দিষ্ট স্পটগুলিতে নিয়মিত খাবার বিলি করার পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুরসভার নিজস্ব উদ্যোগে পথপুকুরদের রেবিস বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার কথাও জোরালোভাবে স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরকারের এই যুগোপযোগী পদক্ষেপে একদিকে যেমন পথপশুদের না খেয়ে থাকার সমস্যা দূর হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে পশুপ্রেমীদের নিত্যদিনের অশান্তিও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *