অজান্তেই পেটে চলে গেছে সুতো? বড় বিপদের আগে জেনে নিন শরীরের ভেতরে কী ঘটে!

পোশাক সেলাই করার সময় সুতো মুখে ধরা কিংবা জামাকাপড় থেকে আলগা সুতো দাঁত দিয়ে কেটে ফেলার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই অসাবধানতাবশত জামাকাপড় বা খাদ্যের সঙ্গে ছোট্ট সুতোর টুকরো পেটে চলে যাওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, অজান্তে বা অসাবধানতায় পেটে সুতো চলে গেলে আমাদের শরীরের ভেতরে ঠিক কী প্রভাব পড়ে?
পাচক রসের ক্ষমতা ও সাধারণ সুতোর পরিণতি চিকিৎসকদের মতে, দুর্ঘটনাবশত সামান্য পরিমাণে কোনো ছোট সুতো পেটে চলে গেলে সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটে না। কারণ মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী। পাকস্থলীতে উপস্থিত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও শক্তিশালী পাচক রস ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জৈব পদার্থকে সহজেই ভেঙে ফেলতে সক্ষম। সুতোটি যদি সাধারণ সুতির হয়, তবে তা পরিপাকনালীর স্বাভাবিক গতিতেই মলদ্বারের মাধ্যমে শরীর থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে সুতোটি শরীর থেকে কখন বেরিয়ে গিয়েছে।
কখন হতে পারে মারাত্মক বিপদ? সব সুতো অবশ্য এভাবে হজম হয় না। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে:
-
নাইলন বা প্লাস্টিকজাতীয় সুতো: সুতির সুতো সহজে পরিপাকনালীতে আটকে না গেলেও, নাইলন বা শক্ত প্লাস্টিকজাতীয় সুতো পাকস্থলীর অ্যাসিডে হজম হয় না। এগুলো পেটের ভেতর অন্যান্য খাদ্যকণার সঙ্গে পেঁচিয়ে গিয়ে মারাত্মক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
-
অন্ত্রে ব্লকেজ (Foreign Body Obstruction): সুতোর দৈর্ঘ্য যদি অনেক বেশি হয়, তবে তা ক্ষুদ্রান্ত্র বা বৃহদন্ত্রের দেওয়ালে আটকে যেতে পারে। এর ফলে অন্ত্রে মারাত্মক ব্লকেজ বা জট পেকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
-
ধাতু বা সুঁচের ঝুঁকি: সেলাইয়ের সুতোর সঙ্গে যদি দুর্ঘটনাবশত কোনো ছোট ধাতব সুঁচ বা ধারালো অংশ পেটে চলে যায়, তবে তা পাকস্থলী বা অন্ত্রের দেওয়ালে গুরুতর ক্ষত তৈরি করতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
-
অজান্তে সুতো খাওয়ার বদভ্যাস: অনেকেরই দীর্ঘদিন ধরে টানা চুল বা সুতো খাওয়ার অদ্ভুত মানসিক অভ্যাস থাকে। এর ফলে পাকস্থলীতে সুতোর বড় ফুটবলের মতো বল বা জট তৈরি হয়, যা একমাত্র অস্ত্রোপচার ছাড়া বার করা অসম্ভব।
কী কী লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন? পেটে চলে যাওয়া সুতো যদি কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা তৈরি করে, তবে শরীরে সাধারণত এই লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়:
-
পেটে অস্বাভাবিক বা তীব্র ব্যথা হওয়া
-
ক্রমাগত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
-
পেট ফুলে যাওয়া কিংবা ভারী হয়ে থাকা
-
কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হওয়া
-
খিদে হঠাৎ করে কমে যাওয়া
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? সুতো পেটে যাওয়ার পর যদি তীব্র যন্ত্রণা, বারবার বমি হওয়া বা অন্য কোনো শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়, তবে কোনো ধরনের ঘরোয়া টোটকা বা অবহেলা না করে অবিলম্বে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।