‘দাদা, আর একটা মাস সময় দাও… তোপসে মাছ ভাজছি!’ কেন সুপারহিট ছবি হাতছাড়া করেছিলেন তাপস পাল?

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘সাহেব’ কিংবা ‘গুরুদক্ষিণা’র মতো কালজয়ী ছবির নাম উঠলেই যাঁর অবয়ব চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তিনি আর কেউ নন—চিরসবুজ অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ তাপস পাল। বিতর্ক আর রাজনৈতিক জীবনের নানা ব্যস্ততার আড়ালে যে খাঁটি শিল্পী তাপস পাল লুকিয়ে ছিলেন, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর আসন আজও অটুট। আজ, ২৯ সেপ্টেম্বর প্রয়াত এই অভিনেতার জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁর জীবনের এক দারুণ মজার ও অজানা অধ্যায়।
খাবারই ছিল যাঁর প্রথম প্রেম টলিউডের প্রথম সারির সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক ফিটনেস, জিম কিংবা কড়া ডায়েটের মতো আধুনিক শব্দগুলো তাপস পালের জীবনের ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করত। খাওয়া এবং অন্যকে খাওয়ানো—দুটোই ছিল তাঁর ভীষণ প্রিয়। ডাল, ভাজা, পোস্ত আর রকমারি মাছের পদ সামনে থাকলে তিনি দুনিয়ার সব ভুলে যেতেন! কিন্তু জানেন কি, স্রেফ এই অদম্য ‘ফুডি’ স্বভাবের কারণেই একসময় তাঁর হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল বিখ্যাত পরিচালক প্রভাত রায়ের একটি জনপ্রিয় ছবির মূল চরিত্র!
পরিচালক প্রভাত রায়ের আত্মজীবনীতে ফাঁস সেই গল্প পরিচালক প্রভাত রায়ের সঙ্গে তাপস পালের সম্পর্কের রসায়ন ছিল দারুণ। প্রভাত রায়ের কথায়, “খুব ভালো ছেলে ছিল ও। আমাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করত তাপস, আর ও ছিল একজন খাঁটি খাদ্যরসিক।” নিজের আত্মজীবনী ‘ক্ল্যাপস্টিক’-এ তাপসের এই অসম্ভব ভোজনরসিক রূপের এক মজার স্মৃতিকথা তুলে ধরেছেন পরিচালক।
প্রভাত রায় তাঁর বইয়ে লিখেছেন, তাঁর তৈরি বিখ্যাত ছবি ‘সেদিন চৈত্র মাস’-এর প্রধান চরিত্রের জন্য প্রথমে তাপস পালকেই কাস্ট করার কথা ভেবেছিলেন তিনি। তবে পরিচালকের একটাই কড়া শর্ত ছিল—চরিত্রের খাতিরে তাপসকে ওজন কমাতে হবে এবং রোগা হতে হবে। শর্ত শুনে সানন্দে রাজি হয়ে অভিনেতা বলেছিলেন, “আমাকে এক মাস সময় দাও দাদা।”
কিন্তু আসল টুইস্ট আসে ঠিক এক মাস পর! ১ মাস কেটে যাওয়ার পর পরিচালক যখন ফোন করে জানতে চান, “তাপস, রোগা হয়েছ?”—তখন ওপার থেকে নির্দ্বিধায় উত্তর আসে, “দাদা, আর একটা মাস সময় দাও!” খটকা লাগায় প্রভাত রায় যখন জানতে চান, “ঠিক আছে সময় নাও, কিন্তু এখন তুমি কী করছ?” জবাবে চিরন্তন সরলতায় তাপস পাল বলে ওঠেন, “এই তো বাজার থেকে এক কিলো তোপসে মাছ নিয়ে এলাম! একটু ভেজে খাব এখন…” আর এই তোপসে মাছপ্রীতির জন্যই হাতছাড়া হয়ে যায় ছবিটি!