ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ, খাবার পেতে জলে নামার লড়াই! সমস্তিপুরের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চরম ক্ষোভ

বিহারের সমস্তিপুর জেলার মোহনপুর ব্লকে বন্যার ভয়াবহ তাণ্ডবের ক্ষত এখনও শুকায়নি। গঙ্গার জলের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের জীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই ত্রাণ বিতরণের একটি অমানবিক ও লজ্জাজনক ছবি সামনে এসেছে। নৌকা থেকে জলে ত্রাণ সামগ্রী ছুড়ে ফেলে দেওয়ার এবং ক্ষুধার্ত মানুষের তা পাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণ বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জলের মধ্যে জীবন বাজি রেখে ত্রাণ সংগ্রহের লড়াই
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্তিপুরের মোহনপুর ব্লকের হারদাসপুর এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা নদীতে সম্প্রতি প্রবল বন্যা দেখা দিয়েছিল। যদিও বর্তমানে জল কিছুটা কমতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে, তবুও দুর্গত মানুষের দুর্দশা কাটেনি। গত রবিবার সামনে আসা ওই ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা গেছে, একটি নৌকায় থাকা কিছু লোক বন্যার্তদের দিকে ত্রাণ সামগ্রী ছুড়ে দিচ্ছেন। আর সেই প্যাকেট সংগ্রহ করতে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে গভীর জলে নেমে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে ছুড়ে ফেলে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে, তা দুর্গত মানুষের প্রতি এক প্রকার চরম অসম্মান ও অপমান। জলের মধ্যে পা পিছলে কারও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পূর্ণ আশঙ্কা থাকলেও ত্রাণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

দ্বীপে পরিণত হয়েছিল একাধিক গ্রাম
গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির ফলে মহিউদ্দিন নগর এলাকার হারদাসপুর, জহিনড়া ও সরসাওয়া গ্রামগুলি জলের ঘেরাটোপে পড়ে সম্পূর্ণ দ্বীপে পরিণত হয়েছিল। এই দিয়ারা অঞ্চলের প্রায় ৬,০০০ মানুষ জলমগ্ন হয়ে চরম সংকটের মুখে পড়েন। মহিউদ্দিন নগর ও মোহনপুর ব্লকে সবমিলিয়ে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় দীর্ঘ দিন পঠনপাঠনও বন্ধ রাখতে হয়েছিল ১৮টি স্কুলে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। গত রবিবার ধরণী পট্টি পশ্চিমের প্রধান এবং পটোরি মুখিয়া সংঘের সভাপতি ডোমান রাই প্রায় ২,০০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এর আগে সমস্তিপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোশন কুশওয়াহা নিজে ব্যক্তিগতভাবে বন্যা-আক্রান্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছিলেন এবং স্বাস্থ্য শিবির স্থাপনসহ একাধিক জরুরি নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবারের এই ত্রাণ বিতরণের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সমস্ত প্রশাসনিক তৎপরতা ও ত্রাণ বিলির স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *