পাকোড়ার সঙ্গে চাটনি মেলেনি! ভরা বাজারে বেল্ট, লোহা ও পাথর নিয়ে দুপক্ষের খণ্ডযুদ্ধে রক্তগঙ্গা, ভাইরাল ভিডিও

পাকোড়ার সঙ্গে পছন্দের চাটনি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে যা কাণ্ড ঘটে গেল, তা দেখে তাজ্জব বনে গেছেন সাধারণ মানুষ। সামান্য চাটনি দেওয়া নিয়ে বচসার জেরে উত্তরপ্রদেশের হাপুড় জেলা একপ্রকার রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। ভরা বাজারের মধ্যে দুই দলের এই তুমুল মারামারি ও রক্তারক্তির দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল হাপুড়ের বাজারে?
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ের ধৌলানা থানা এলাকার দেহরা গ্রামে। স্থানীয় একটি তেলেভাজার দোকানে পাকোড়া কিনতে গিয়ে দোকানদারের সঙ্গে এক ক্রেতার চাটনি দেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই তুচ্ছ বচসা চরম আকার ধারণ করে। ওই ক্রেতা দোকানদারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে আরও কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে আসেন এবং দোকানদারের ওপর চড়াও হন। দোকানদারকে বাঁচাতে আশপাশের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বেল্ট, পাথর ও লোহার হাতা নিয়ে খণ্ডযুদ্ধ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ভরা বাজারের মাঝে দুই পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর এলোপাথাড়ি ঘুষি ও লাথি চালাচ্ছে। মারামারির মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, চামড়ার বেল্ট ও পাথর ছোড়াছুড়ি তো বটেই, এমনকী দোকান থেকে বড় লোহার হাতা তুলে এক ব্যক্তির মাথায় সজোরে আঘাত করতেও দেখা গেছে।

এই নির্বিচারে মারধরের জেরে একাধিক ব্যক্তির জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় এবং চারজন গুরুতর আহত হন। ভরা বাজারে এই তাণ্ডব দেখে সাধারণ পথচারী ও ক্রেতারা চরম আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। এক মহিলা ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করলেও মারমুখী জনতাকে নিবৃত্ত করা যায়নি। ইন্টারনেটে এই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা এর সঙ্গে ২০২১ সালের বিখ্যাত ভাইরাল ‘বঘপত কাণ্ড’-এর তুলনা টানছেন, যেখানে দুই চাট বিক্রেতার লাঠিখেলার ভিডিও তুমুল শোরগোল ফেলেছিল।

পুলিশের পদক্ষেপ
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে ধৌলানা থানার পুলিশ। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ও ভাইরাল ফুটেজ খতিয়ে দেখে সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *