কথায় কথায় গ্যাসের ওষুধ খাওয়া এবার আইনত অপরাধ! প্রেসক্রিপশন ছাড়া দোকানে মিলবে না এই জনপ্রিয় ওষুধ?

কথায় কথায় সরাসরি ওষুধের দোকানে গিয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়া গ্যাস বা অ্যাসিডিটির ওষুধ কিনে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে কি? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে আপনার জন্য রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এবার থেকে আর নিজের ইচ্ছেমতো ফার্মেসি থেকে অ্যাসিডিটির ওষুধ কিনে খাওয়া সম্ভব হবে না। সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)-এর নতুন এবং কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া এখন থেকে আর অ্যাসিডিটির ওষুধ বিক্রি করতে পারবেন না ওষুধের দোকানদাররা। বিশেষ করে ‘ভোনোপ্রাজান’ (Vonoprazan) নামক বহুল ব্যবহৃত ওষুধটি এবার থেকে শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশন থাকলেই মিলবে।

সিডিএসসিও-র নতুন নির্দেশিকার নেপথ্যের কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন অ্যাসিডিটি বা অম্বলের সমস্যা হলে এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজে থেকে ওষুধ খেলে তার মূল কারণ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। সিডিএসসিও জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ফলে মানবশরীরে ভিটামিন বি১২ এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমনকি এর জেরে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অন্যান্য গুরুতর শারীরিক জটিলতাও তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর অর্থ এই নয় যে ওষুধ সেবনকারী প্রত্যেকেরই এই সমস্যা হবে, তবে যদি প্রতিদিন বা দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। শুধু অ্যাসিডিটি নয়, পাকস্থলী ও অন্ত্রের একাধিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

পেট ও অন্ত্রের সমস্যার ওষুধে বড় বদল
অ্যাসিডিটির চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ‘ভোনোপ্রাজান’ ওষুধটির বিষয়ে এই বড় পরিবর্তন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ভারতে এই ওষুধটি ইতিমধ্যেই ১০ এবং ২০ মিলিগ্রাম ডোজে অনুমোদিত রয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পাকস্থলী ও অন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে এই ওষুধটি শুধুমাত্র ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতেই দোকানে বিক্রি করতে হবে। ওষুধটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিজে থেকে এটি সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্যাটি লিভার ও অন্যান্য রোগের নতুন চিকিৎসার আপডেট
শুধু অ্যাসিডিটি নয়, দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসার জন্যও নতুন ওষুধ নিয়ে কাজ চলছে। সিডিএসসিও-র নির্দেশ অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ‘ইফ্রুক্সিফারমিন’ (Efruxifermin) এবং ‘রেসমেটিরম’ (Resmetirom)-এর মতো ওষুধ তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে ইফ্রুক্সিফারমিনের ফেজ ৩ ট্রায়াল চলছে, যা লিভারে চর্বি জমার পাশাপাশি প্রদাহ এবং লিভারের ক্ষতি সারাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা এবং আইবিএস-সি (IBS-C)-র মতো উপসর্গের চিকিৎসায় ‘লিনাক্লোটাইড’ (Linaclotide) ওষুধটির ৭২, ১৪৫ এবং ২৯০ মাইক্রোগ্রাম ডোজ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া শিশুদের সিকেল সেল ডিজিজ (Sickle Cell Disease)-এর চিকিৎসায় ‘অ্যাটাভোপিভাট’ নামক ওষুধ নিয়ে ৬ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের ওপর ফেজ ৩ ট্রায়ালের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রশাসনের কড়া বার্তা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধই স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *