‘ভয় পাবেন না, নির্ভয়ে গীতা ও হনুমান চালিশা পড়ুন!’ ১১ হাজার কণ্ঠের আসরে বড় ঘোষণা কার?

রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের একটি বিরাট অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যজুড়ে সনাতনী জাগরণের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে কড়া সুরে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে এখন আর আগের দিন নেই, মৌসম ও জমানা দুটোই বদলে গিয়েছে। তাই সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর দিন শেষ। যারা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

নেতাজি ইন্ডোরে সনাতনী মহাসমাবেশ: এদিন কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান যে তিনি রাজনৈতিক কোনো প্রশাসনিক পদে থেকে নয়, বরং একজন সাধারণ সনাতনী হিসেবে এই পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে সনাতনী সংস্কৃতির পুনরুত্থান ঘটছে, তার প্রশংসা করে তিনি অতীতে ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ, শিলিগুড়িতে ৫০ হাজার কণ্ঠে পাঠ এবং গত বছরের ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা স্মরণ করান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ২৯ ডিসেম্বর রাজ্যে আরও বড় পরিসরে ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হবে।

বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে বার্তা: বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্প্রতি লিলুয়ায় বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে ঘটা অনভিপ্রেত ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। অভিযোগ তোলেন যে কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধু-সন্তদের অপমান করেছে এবং তাঁদের কুশপুতুল পুড়িয়েছে। বিধানসভার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুনর্বার বলেন যে সাধু-সন্তদের অসম্মানকারীদের জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, রাজ্যবাসীকে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব ও গীতাপাঠ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। অনুষ্ঠান শেষে নিজেই গীতার একটি অধ্যায় পাঠ করার পাশাপাশি গীতা আরতিতেও অংশ নেন তিনি, যা উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা সৃষ্টি করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *