পুরনো মোবাইল কি কোনো দিন অলিম্পিক মেডেলের অংশ হতে পারে? অবিশ্বাস্য ও তাক লাগানো এই সত্য ঘটনা জানলে চমকে যাবেন

আপনার হাতের পুরনো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি কি কোনো দিন অলিম্পিকের কোনো পদক বা মেডেলের অংশ হতে পারে? শুনতে অদ্ভুত বা অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এই অসম্ভবকে করে দেখিয়ে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল জাপান। টোকিও ২০২০ অলিম্পিক এবং প্যারাঅলিম্পিকের জন্য মেডেল তৈরির সময় জাপান সরকার এক সম্পূর্ণ অভিনব ও অনন্য রিসাইক্লিং মডেলের সূচনা করেছিল, যা নিয়ে আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনা হয়।
কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই মেডেলগুলি? ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জাপানে একটি বিশেষ জাতীয় অভিযান চালানো হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে তাঁদের জমানো বা ফেলে দেওয়া পুরনো মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস দান করার আর্জি জানানো হয়। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাপানের নাগরিকেরা মোট প্রায় ৬২ লক্ষ ১০ হাজার (৬.২১ মিলিয়ন) পুরনো মোবাইল ফোন এবং প্রায় ৭৯ হাজার ছোট ইলেকট্রনিক গ্যাজেট দান করেন। স্থানীয় সরকার, পৌরসভা এবং ৩৮টি বেসরকারি কোম্পানির যৌথ সহযোগিতায় এই বিপুল পরিমাণ জঞ্জাল সংগ্রহ করা হয়।
এর পর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই ডিভাইসগুলি প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্লাস্টিক, গ্লাস এবং লোহা আলাদা করার পর ডিভাইসগুলির ভেতরে থাকা মূল্যবান ধাতুগুলি রিফাইনিং করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে প্রায় ৩২ কিলোগ্রাম সোনা, ৩,৫০০ কিলোগ্রাম রুপো এবং ২,২০০ কিলোগ্রাম ব্রোঞ্জ বা তামা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। আর এই ধাতুগুলি থেকেই টোকিও অলিম্পিকের প্রায় ৫,০০০টি মেডেল তৈরি করা হয়েছিল।
রিসাইক্লিংয়ের এক অনন্য নজির: বিশেষ বিষয় হলো, অলিম্পিকের সোনা বা রুপোর মেডেলগুলি সরাসরি আস্ত সোনা বা রুপোয় তৈরি ছিল না। যেমন—স্বর্ণপদকগুলির মূল বডি ছিল রুপোর তৈরি, যার ওপর ৬ গ্রামেরও বেশি খাঁটি সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল। আর ব্রোঞ্জ পদকগুলি তৈরি হয়েছিল কপার-রিচ সংকর ধাতু থেকে। জাপানের এই অভিনব উদ্যোগ প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করলে কেবল পরিবেশের বর্জ্য বা জঞ্জালই কমানো যায় না, বরং ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে এমন অবিশ্বাস্য জিনিসও তৈরি করা সম্ভব যা সচরাচর কল্পনাই করা যায় না।