এলপিইউ-তে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে তোলপাড়! হস্টেলে চরম ভাঙচুর, অবরুদ্ধ জাতীয় মহাসড়ক

পঞ্জাবের ফাগওয়ারায় অবস্থিত নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (LPU)-তে চরম অশান্তি। ক্যাম্পাসের ভেতরে এক ছাত্রীকে কথিত ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অবশেষে থানায় এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। আর এরপর থেকেই গোটা চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩শে সেপ্টেম্বর এলপিইউ-এর ৩ নম্বর গার্লস হস্টেলের ভেতরে এই ঘটনাটি ঘটে। ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানোর পর, ২৭শে সেপ্টেম্বর সকালে কাপুরথালা জেলার সাতনামপুরা থানায় একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা সংশ্লিষ্ট আইনের ৬৪ ধারার অধীনে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত এফআইআরে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি এবং ভুক্তভোগীর পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের দাবি ও বিক্ষোভ:
ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হস্টেলের আবাসিক ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ ও স্লোগানবাজি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা চণ্ডীগড়-অমৃতসর জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
ছাত্রছাত্রীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:
ঘটনার সময়ের হোস্টেলের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা।
কথিত ভুক্তভোগীর হোস্টেল কক্ষটি অবিলম্বে সিল করা, যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট না হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা ও হোস্টেল ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁদের কঠোর শাস্তির দাবি।
তদন্তভার মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে:
ঘটনার সংবেদনশীলতা বিচার করে পাঞ্জাব পুলিশ ইতিমধ্যেই মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর নভজ্যোত কৌরকে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) হিসেবে নিয়োগ করেছে। পুলিশের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক প্রমাণ এবং মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস বা তথ্য খতিয়ে দেখছে।
কী বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?
পুরো ঘটনায় যখন চারদিকে শোরগোল পড়ে গেছে, তখন ক্যাম্পাসের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এলপিইউ প্রশাসন। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘গুজব’ বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কিছু সমাজবিরোধী শক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও মনগড়া খবর ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে এই ধরনের গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল বার্তার ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এতকিছুর পরেও ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে রয়েছে।