হাথিয়া নক্ষত্রের তাণ্ডব! ৬০ ঘণ্টার একটানা বৃষ্টিতে ভাসল উত্তরপ্রদেশ, মৃত বেড়ে বহু

বর্তমানে চলছে ‘হাথিয়া নক্ষত্র’, যার প্রভাবে আকাশে ঘন মেঘ আর বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই ছিল। কিন্তু এবারের এই হাথিয়া নক্ষত্রের বৃষ্টি উত্তরপ্রদেশে যে এমন ধ্বংসলীলা চালাবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। রাজধানী লখনউসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গত ৬০ ঘণ্টা ধরে চলছে অবিরাম বৃষ্টি। কমার কোনো লক্ষণ নেই, কখনো হালকা তো কখনো মুষলধারে চলছে এই তাণ্ডব। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের প্রায় সবকটি জেলাই প্লাবিত হয়েছে।

টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের জেরে রাজ্যের একাধিক জায়গায় বাড়ি ধসে পড়া, গাছ ভেঙে পড়া এবং বজ্রপাতে মর্মান্তিক প্রাণহানির খবর মিলেছে। গোরক্ষপুরে বিভিন্ন ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ফতেহপুরে বাড়ি ধসে এক ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে, বান্দায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা। গোন্ডায় বাইকের ওপর গাছ ভেঙে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি লখিমপুর খেরি এবং বারাবাঁকিতে পৃথক দুর্ঘটনায় ৩ জন করে মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

কোথায় কোথায় সবথেকে বেশি বৃষ্টি?
আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাহরাইচ, ফারুখাবাদ, শাহজাহানপুর, হামিরপুর, বান্দা এবং কানপুরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বর্ষা মৌসুমে বাহরাইচে সর্বোচ্চ ১৯৩ মিমি, হামিরপুরে ১৬৪ মিমি, লখিমপুর খেরিতে ১৬৩ মিমি, শাহজাহানপুরে ১৬২ মিমি, বান্দায় ১৫৩ মিমি, ফারুখাবাদে ১৩৯ মিমি, কনৌজে ১৩৭ মিমি, মহোবায় ১৩৭ মিমি, লখনউতে ১২৫ মিমি, শ্রাবস্তীতে ১২৭ মিমি এবং কানপুর নগরে ১১১ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এক ধাক্কায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১৮৪৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জলের তলায় লখনউয়ের অভিজাত এলাকা:
টানা প্রায় ৬০ ঘণ্টার বৃষ্টিতে লখনউয়ের জলমগ্ন ছবি সামনে এসেছে। জানকিপুরম, আশিয়ানা, রুচি খণ্ড, রশ্মি খণ্ড, সরোজিনী নগর এবং গোমতি নগরের মতো একাধিক অভিজাত এলাকার প্রধান রাস্তাগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আশিয়ানা এলাকায় নর্দমার জল উপচে মানুষের ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

কবে মিলবে রেহাই? কী বলছে হাওয়া অফিস?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে তীব্র নিম্নচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। আজ অর্থাৎ রবিবার তরাই অঞ্চলে কিছু বৃষ্টি হলেও, আগামী সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর থেকে উত্তরপ্রদেশের আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করবে। লখনউতেও আজ থেকে বৃষ্টি থামার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর, যদিও আকাশ মূলত মেঘলাই থাকবে। সোমবার থেকে পুরোপুরি আবহাওয়া বদলালে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *