“আদালতের মধ্যেই চুলোচুলি, কিল-ঘুষি!” খোরপোশের মামলায় হাতাহাতিতে জড়াল দম্পতি, তারপর যা হলো…

খোরপোশ সংক্রান্ত মামলার শুনানির রেশ গড়াল হাতাহাতিতে। বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াই চলাকালীন আদালতের ভেতরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হলো তুমুল মারপিট। সর্বসমক্ষে একে অপরকে কিল, চড় ও ঘুষি মারার সেই ভিডিও এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে শেষমেশ হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ ফ্যামিলি কোর্টে। পারিবারিক বিরোধ ও বিবাহবিচ্ছেদের একটি মামলার শুনানি শেষ হওয়ার ঠিক পরেই বিচারালয়ের চত্বরে এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে।
সূত্রের খবর, মামলার শুনানির পর হঠাৎ করেই দুই পরিবারের সদস্যরা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে সেই তর্কবিতর্ক রূপ নেয় চরম মারপিটে। অভিযোগ উঠেছে, জনসমক্ষে স্ত্রীকে চুল ধরে টানতে টানতে মারধর শুরু করেন স্বামী মণীষ কুমার মিশ্র। এমনকি স্ত্রীর গলা টিপে ধরে তাঁকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা স্বামীর দিকে তেড়ে যান স্ত্রী প্রিয়া ত্রিপাঠীও। কষিয়ে থাপ্পড় মারেন তাঁকে। প্রকাশ্য আদালতে এই মারপিট দেখতে ভিড় জমিয়ে ফেলেন অন্যান্য মক্কেল ও আইনজীবীরা।
প্রিয়ার অভিযোগ, তাঁদের দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে এর আগেও বহুবার অশান্তি হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ফ্যামিলি কোর্টে মামলার শুনানির দিন তাঁর বাবা ও বোন সঙ্গে ছিলেন। শুনানি শেষে আদালত চত্বরেই মণীষ তাঁদের নানাভাবে হেনস্থা ও কটূক্তি করেন। থানায় দায়ের করা অভিযোগে ওই গৃহবধূ আরও জানান, খোরপোশ নিয়ে বচসার জেরেই জনসমক্ষে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিলেন তাঁর স্বামী।
এই ঘটনার পরেই স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ত্বরিত পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। আদালত চত্বরে অশান্তি পাকানো এবং গায়ে হাত তোলার অপরাধে অভিযুক্ত স্বামী মণীষ কুমার মিশ্র এবং তাঁর এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের মাঝেই আদালতের অন্দরে এমন নজিরবিহীন মারপিটের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।