দিল্লির বুকে ফের নির্ভয়া কাণ্ডের ছায়া! চলন্ত বাসে কিশোরীকে ধর্ষণ, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের

দিল্লিতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার উঠল প্রশ্নচিহ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া একের পর এক নৃশংস গণধর্ষণের ঘটনায় এবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। কালকাজি মন্দিরের কাছের পার্ক হোক কিংবা গ্রেটার নয়ডা থেকে কাশ্মীরি গেটগামী চলন্ত স্লিপার বাস—নারকীয় এই ঘটনাগুলো নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। খোদ সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ত্রুটির দিকেই আঙুল তুলছে।

২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের সঙ্গে মিল!

শুনানির সময় আদালতের নজরে আসে গ্রেটার নয়ডার প্যারী চক থেকে দিল্লির কাশ্মীরি গেট পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে চলন্ত স্লিপার বাসের ভিতরে ১৬ বছরের এক কিশোরীর উপর ঘটে যায় অকথ্য নির্যাতন। বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে ওঠা এই নৃশংসতার অভিযোগে শিড়দাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গিয়েছে সকলের। দীর্ঘ পথ চলার পরেও পুলিশ কেন বাসটি আটকাতে পারেনি, সেই প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত একে ২০১২ সালের মর্মান্তিক নির্ভয়া কাণ্ডের সঙ্গে “বেদনাদায়ক সাদৃশ্য” বলে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে, কালকাজি মন্দিরের কাছে আস্থা কুঞ্জ পার্কে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাও কম আতঙ্কজনক নয়। পুলিশ পরিচয় দিয়ে তিন দুষ্কৃতী ওই কিশোরী ও তাঁর বন্ধুকে ভয় দেখায়, এরপর অস্ত্রের মুখে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে চলে পাশবিক নির্যাতন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে নিরাপত্তার ফাঁকফোকড় নিয়ে।

‘শুধু সংহতি প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান নয়’

বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ঘটনার পর শুধু সহমর্মিতা বা সংহতি প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অপরাধ প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে পূর্ণ জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত আলোর অভাব, নজরদারির ঘাটতি এবং পুলিশি টহলের দুর্বলতার কারণে কোনো জনবহুল এলাকাকে অপরাধের স্বর্গরাজ্য হতে দেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেছে শীর্ষ আদালত।

রাজধানীর বুকে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের তরফ থেকে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *