কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বড় বদল! টাকা পাওয়ার আগে মানতেই হবে এই কড়া নিয়ম, না হলে বন্ধ হবে অনুদান?

রাজ্যের কৃষক পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দিতে একাধিক প্রকল্প চালু রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের জন্য বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। এবার থেকে উপভোক্তাদের তথ্য ও নথি পুনরায় যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন এই বাধ্যতামূলক যাচাই প্রক্রিয়া?
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক সহায়তা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত এবং যোগ্য কৃষকদের কাছেই পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে বহু অযোগ্য ব্যক্তিও এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই কারণেই সমস্ত বিদ্যমান উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, যে সমস্ত যোগ্য কৃষক এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘PM Kিসান’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত হননি, তাঁদেরও নতুন করে চিহ্নিত করা হবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
পিএম কিষাণ উপভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা
যোগ্য ‘PM Kিসান’ উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অনুদানের পাশাপাশি রাজ্য সরকার বছরে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণেই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের রেকর্ড সেন্ট্রাল ‘PM Kিসান’ ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কৃষক বন্ধু পোর্টালে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে কারা এই বাড়তি সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
যাঁরা এখনও ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য ফের সুযোগ
কৃষি দফতর জানিয়েছে, যে সমস্ত পুরনো উপভোক্তা এখনও নির্ধারিত ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো প্রকৃত ও যোগ্য কৃষক যাতে সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হন, সেই কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই যাঁরা ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথি নিকটবর্তী ব্লক কৃষি আধিকারিকের (BDO) অফিসে জমা দিতে হবে।
কোন কোন নথিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে?
তথ্য যাচাইয়ের জন্য শুধু ফর্ম পূরণ করলেই চলবে না, সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে:
উপভোক্তার সঠিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত আধার কার্ড।
নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর আধার ও মোবাইল সংক্রান্ত তথ্য।
জমির পরিমাণ এবং বৈধ জমি সংক্রান্ত নথি বা পর্চার কপি।
প্রয়োজন সাপেক্ষে কৃষি দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা অন্যান্য নথিপত্রও জমা দিতে হতে পারে। এছাড়া যাঁদের মোবাইল নম্বর কৃষক বন্ধু ডেটাবেসে সঠিকভাবে নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁরা রেজিস্টার্ড নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ব্লক ও স্থানীয় স্তরে এই বিষয়ে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী, এক একর বা তার বেশি জমি থাকলে কৃষকরা বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পান। অন্যদিকে, এক একরের কম জমি থাকলেও আনুপাতিক হারে অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি কোনো নথিভুক্ত কৃষকের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়ে থাকে।