মতানৈক্য যতই থাকুক, দ্বন্দ্বে জড়াবে না দুই এশীয় পরাশক্তি! মোদি-জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক বৈঠকে কোন বড় বার্তা দিল বেজিং ও নয়াদিল্লি?

বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও চিন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা একমত হয়েছেন যে, পারস্পরিক মতানৈক্য থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে রূপান্তরিত না হয়।
সীমান্তে শান্তি ও স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর
গত সাত বছরে এই প্রথম ভারত সফরে এলেন চিন প্রধান শি জিনপিং। বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুস্থ অগ্রগতির জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে সবচেয়ে বেশি বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করেন। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই নেতাই সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যাগুলির ক্ষেত্রে বর্তমান চুক্তি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া কঠোরভাবে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি, সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতার স্বচ্ছ, যুক্তিযুক্ত এবং পারস্পরিক সমঝোতাপূর্ণ সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তাঁরা।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ
সীমান্ত সমস্যা এবং গালওয়ানের তিক্ততার ছায়া পেরিয়ে দুই দেশই অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কাঠামোগত বাণিজ্য ঘাটতি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনের মতো উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এর মাঝেই মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের পথ সুগম করতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে গুয়াংঝৌ-নয়াদিল্লি রুটে বিমান চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা করেছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স, যা দীর্ঘ ছ’বছর ধরে বন্ধ ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের পর ব্রিকস সম্মেলনের এই বৈঠক ভারত ও চিনের ভাঙা সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চাপ, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া যে এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।