দুনিয়ার যে কোণেই লুকিয়ে থাক না কেন, রেহাই পাবে না অপরাধীরা! পাঞ্জাব পুলিশের এই পদক্ষেপে কাঁপছে আন্ডারওয়ার্ল্ড

পাঞ্জাবে সংগঠিত অপরাধ এবং গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। আম আদমি পার্টির (আপ) পাঞ্জাবের মিডিয়া ইনচার্জ বলতেজ পান্নু এক প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন সরকার অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে যে কঠোর অভিযান শুরু করেছে, তার জাল এখন পাঞ্জাবের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীদের পিছু ধাওয়া করে সুদূর বিদেশ থেকেও ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি গ্যাংস্টারকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিদেশ থেকেও গ্যাংস্টারদের দেশে ফেরানো হচ্ছে
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, মালয়েশিয়া থেকে শুরু করে মোল্দোভা—বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে লুকিয়ে থাকলেও গ্যাংস্টারদের রেহাই দিচ্ছে না পাঞ্জাব পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী করমবীর দেবকে কানাডা থেকে ডিপোর্ট করার পর দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। এর আগে লরেন্সের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনমোল বিষ্ণোইকে আমেরিকা থেকে এবং ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত অমৃতপাল ওরফে মেহরোকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়া মাত্র কিছুদিন আগেই এজিটিএফ (AGTF) টিম মোল্দোভা থেকে গ্যাংস্টার অমৃতপাল ওরফে অমৃত ধল্লামকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।
পুলিশকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হয়েছে
বলতেজ পান্নু বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে যেভাবে গ্যাংস্টার সংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছিল, বর্তমান সরকার সেই ধারা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। পাঞ্জাব পুলিশকে কেবল গতানুগতিক গাড়ি দিয়ে নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত সরঞ্জামে সুসজ্জিত করা হয়েছে। এর ফলে অপরাধ ঘটার আগেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হচ্ছে।
বিরোধী দলগুলির সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি আরও বলেন যে, বিগত সরকারগুলির আমলে অপরাধ দমনের পরিবর্তে কুখ্যাত অপরাধীদের মদত দেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের স্পষ্ট বার্তা হলো—পাঞ্জাবের মাটিতে দাঁড়িয়ে যারা সাধারণ মানুষকে হুমকি দেবে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাবে, তারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, আইন তাদের খুঁজে বের করবেই।