গাড়ি-বাড়ি থেকেও মিলছে সরকারি ভাতা! সাধারণ মানুষ যখন বঞ্চিত, তখন বিজেপির প্র প্রভাবশালী নেত্রীর কান্ডে শোরগোল

সরকার বদল হলেও কাটল না দুর্নীতির মেঘ। সাধারণ দুস্থ মানুষ যখন একাধিক সরকারি সহায়তার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, ঠিক তখনই মালদায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অনুদান নেওয়ার অভিযোগ উঠল ক্ষমতাসীন দলেরই এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, স্বামী রেলকর্মী এবং দোতলা পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা নিয়মিত ঢুকেছে বিজেপি কাউন্সিলর বাসন্তী রায় ও তাঁর মেয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
মালদার এই ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রভাব খাটিয়ে ভাতা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, পুরাতন মালদা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর বাসন্তী রায় নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় নিজের ও নিজের মেয়ে সুস্মিতা রায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়েছেন। বাসন্তী দেবী কেবল পুরসভার জনপ্রতিনিধিই নন, তিনি বিজেপির পুরাতন মালদা নগর মণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর স্বামী লব রায় একজন ভারতীয় রেলের স্থায়ী কর্মী। তাঁদের বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি এবং নিজস্ব গাড়িও রয়েছে।
তবে নিজের সাফাই গেয়ে বাসন্তী রায় বলেন, “আমি অফলাইনে আবেদন করেছিলাম। জানতাম যে মহিলারা চাকরি করেন না, তাঁরাই এই সুবিধে পাবেন। তাই আবেদন জানিয়েছিলাম। তবে একবারই টাকা পেয়েছি, এখন আর পাচ্ছি না। সরকারি নিয়ম না জানার ফলেই এমনটা হয়েছিল।”
বঞ্চিত গরিব মানুষের ক্ষোভ
কাউন্সিলরের এই যুক্তিতে বিন্দুমাত্র শান্ত হচ্ছেন না এলাকার গরিব মানুষ। একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা পাপিয়া পাল, যাঁর স্বামী একজন সবজি বিক্রেতা এবং নিজে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান, তিনি দিনের পর দিন আবেদন করেও প্রকল্পের টাকা পাননি। ক্ষোভ উগরে দিয়ে পাপিয়া বলেন, “কাউন্সিলরের নিজস্ব বাড়ি, গাড়ি আছে, স্বামী রেলকর্মী। তিনি আর তাঁর মেয়ে প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন, অথচ আমার মতো দুস্থ পরিবারকে আবেদনপত্রে ভুল আছে বলে ঘুরানো হচ্ছে। তাহলে সরকার বদলে লাভটা কী হল?”
একই রকম আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন চাল কলের কর্মী, বিধবা বাসন্তী রায়ও। তাঁর মতে, বিত্তবানদের দেওয়া বন্ধ করে প্রকৃত অভাবী মানুষদের এই সুবিধা দেওয়া উচিত ছিল।
দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা
ঘটনা নিয়ে বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রতাপ সিং বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করে জানান, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে সবাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, যোগ্যতা না থাকলে কেউ পাবেন না। সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন করলে সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য আলাদা কোনও নিয়ম থাকে না।
তৃণমূল আমলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বিজেপি সরকারের আমলে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় রূপান্তর করার পর অনুদানের অঙ্ক বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠিত নতুন সরকারের আমলেও এমন স্বজনপোষণ এবং অযোগ্যদের তালিকাভুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ায় মালদা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।