গ্যালারিতে ‘ট্রফি চোর’ স্লোগান, এবার গুগলেও বিড়ম্বনা! পাকিস্তানের প্রভাবশালী ক্রিকেট কর্তার এ কী দশা?

বাইশ গজের পারফরম্যান্সে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এমনিতেই খাদের কিনারে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে নাম লেখা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কাছে হার বা বিদেশে হোয়াইটওয়াশ—অবনতির তালিকাটা কম দীর্ঘ নয়। তবে এবার সব সীমা ছাড়িয়ে এক অভূতপূর্ব লজ্জার মুখে পড়লেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান তথা দেশের প্রভাবশালী মন্ত্রী মহসিন নকভি। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে ‘Trophy Chor’ লিখে সার্চ করলেই ভেসে উঠছে তাঁর ছবি!
দুবাইয়ের স্টেডিয়ামে ভারতীয় দর্শকদের বিদ্রুপের পর এবার গুগল সার্চেও মহসিন নকভির এই পরিচয় ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট মহলে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গ্যালারিতে ‘ট্রফি চোর’ স্লোগান ঘটনার সূত্রপাত রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মহিলাদের এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে। ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নকভি। ফাইনাল শেষ হতেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত শত শত ভারতীয় সমর্থক একযোগে চিৎকার করে স্লোগান দিতে শুরু করেন— “ট্রফি চোর, নকভি ট্রফি চোর!” বেশ কয়েক মিনিট ধরে গ্যালারিতে এই স্লোগান চলতে থাকে, যা দেখে নিজেদের হাসি চেপে রাখতে পারেননি ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররাও।
কেন এই আক্রোশ? ভারতীয় সমর্থকদের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে গত বছরের এক পুরোনো ঘটনা। দুবাইয়ে পুরুষদের এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই সময় নকভির হাত থেকে ট্রফি নেননি সূর্যকুমার যাদবরা। এর পর নকভি সেই ট্রফি বিজয়ী দলের হাতে তুলে না দিয়ে এসিসির দফতরে পাঠিয়ে দেন। জয়ী হয়েও ট্রফি হাতে না পাওয়ার সেই ক্ষোভ থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীরা নকভিকে ‘ট্রফি চোর’ তকমা দেন।
ট্রফি প্রদান বয়কট ও রাজীব শুক্লার বয়ান সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া এই টুর্নামেন্টেও ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে চর্চা শুরু হলে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা জানান, এটি ছিল ভারতীয় দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীব শুক্লা বলেন, “আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে নকভির হাত থেকে ট্রফি নেওয়া হবে না। নকভি নিজেও এই সিদ্ধান্তে কোনো আপত্তি জানাননি। তিনি অন্য এক আধিকারিকের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সেখান থেকে চলে যান।”
খেলার মাঠে পারফরম্যান্সের ব্যর্থতা আর প্রশাসনিক স্তরে এমন নজিরবিহীন বিতর্ক—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি এখন কার্যত তলানিতে।