পুজোর পরেই কি পকেটে টান পড়তে চলেছে? রাজ্যে বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিল সরকার

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো মিটলেই রাজ্যে বেসরকারি বাসের ভাড়া বৃদ্ধির জোরালো উদ্যোগ নিতে পারে রাজ্য সরকার। দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে বাস ভাড়া অপরিবর্তিত থাকার পর, সোমবার রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং-এর সঙ্গে বাস মালিক সংগঠনগুলির দু’দফা বৈঠকের পরই এই জল্পনা মাথাচাড়া দিয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর পর ভাড়ার অচলাবস্থা কাটছে?
শেষবার ২০১৮ সালে রাজ্যে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোভিডের সময় বা তার পরবর্তী সময়েও ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অথচ গত আট বছরে লাগাতার পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং কর্মীদের বেতন এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে নিজেদের পুঁজি ভেঙে ব্যবসা চালাতে গিয়ে বাস মালিকদের কালঘাম ছুটে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়াজুড়ির দাবি জানিয়ে আসছিলেন মালিকপক্ষ।
ময়দান টেন্টে জোড়া বৈঠক ও মন্ত্রীর আশ্বাস
সোমবার ময়দান টেন্টে পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং প্রথমে পরিবহণ দফতরের সচিব এবং পাঁচটি রাজ্য পরিবহণ নিগমের (STU) আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর রাজ্যের আটটি বেসরকারি বাস মালিক সংগঠন, পরিবহণ দফতরের পদস্থ কর্তা এবং এনএইচএআই (NHAI)-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পুজোর আগে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে পুজোর পরেই ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হবে। তবে ঠিক কতটা ভাড়া বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে পুজোর পর বাস সংগঠনগুলির সঙ্গে ফের আলোচনায় বসবে পরিবহণ দফতর। পাশাপাশি, ভাড়াবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের উন্নত পরিষেবা দেওয়ার বিষয়ের ওপরও সমান জোর দেওয়া হয়েছে।
বাস মালিকদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে বড় সিদ্ধান্ত
এদিনের বৈঠকে শুধু ভাড়াবৃদ্ধি নয়, বাস মালিকদের অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলি নিয়েও একাধিক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
অভিন্ন টোল নীতি: ওড়িশার ধাঁচে রাজ্যেও অভিন্ন টোল নীতি চালুর কথা বলা হয়েছে। টোল প্লাজায় বেআইনি অতিরিক্ত টাকা আদায় ও ফাস্টট্যাগ (FASTag) সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে প্রতি বাসের টোল ট্যাক্স বাবদ ১০০০ টাকা বরাদ্দ এবং টোল কর্মীদের জন্য ইউনিফর্ম চালুর বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে এনএইচএআই-কে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
বকেয়া মেটানো ও কর মকুব: নির্বাচনে ব্যবহৃত বাসের বকেয়া ভাড়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বকেয়া মোটর ভেহিক্যালস ট্যাক্সের ওপর থাকা জরিমানা মকুব করার আইনি দিকটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের।
পুলিশি হয়রানি বন্ধ: রাতে পার্কিং সমস্যা এবং পুলিশের হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে উপযুক্ত পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সামনেই দুর্গাপুজো থাকায় উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং পর্যাপ্ত বাস পরিষেবা বজায় রাখতে বাস সংগঠনগুলির কাছে পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছে রাজ্য সরকার।