‘ট্রফি চোর নকভি!’ দুবাই স্টেডিয়ামে পাক কর্তাকে লক্ষ্য করে ধেয়ে এল দর্শকদের স্লোগান, দেখে হাসি থামেনি হরমনপ্রীতদের!

দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় থেকে শুরু হওয়া ‘মাছ চোর’ গানটির মতো প্রায় অনুরূপ এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেল রবিবার দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। মহিলাদের এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড প্রধান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) সভাপতি মহসিন নকভিকে ঘিরে তৈরি হলো চরম বিতর্ক। ম্যাচ শেষ হতেই গ্যালারিতে উপস্থিত কয়েকশো ভারতীয় দর্শক সুর করে গাইতে শুরু করেন—‘ট্রফি চোর, নকভি ট্রফি চোর’। টানা কয়েক মিনিট ধরে চলা এই স্লোগানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে পাক ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তার প্রতি ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভ। দর্শকদের এই কান্ড দেখে হাসি ধরে রাখতে পারেননি খোদ ভারতীয় ক্রিকেটাররাও।
কেন এই স্লোগান?
ক্রীড়ামহলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন হঠাৎ এমন উপাধি পেলেন মহসিন নকভি? এর নেপথ্যে রয়েছে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং প্রায় এক বছর আগের এক বিতর্কিত ঘটনা। গত বছর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত পুরুষদের এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেও একই নীতি নিয়েছিল। সূর্যকুমার যাদবের দল নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ ওঠে, নকভি নিজে ট্রফি তুলে না দিয়ে সেটি দুবাইয়ে এসিসি দপ্তরে আটকে রেখেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও জয়ের স্মারক হাতে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভারতীয় সমর্থকরা সেই সময় থেকেই তাঁকে ‘ট্রফি চোর’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন।
কী বললেন রাজীব শুক্লা?
মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন নকভি। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা এবং সচিব দেবজিৎ শইকীয়া। তবে ভারতীয় মহিলা দল যে নকভির হাত থেকে ট্রফি নেবে না, তা আগেই নির্ধারিত ছিল। দিল্লি ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজীব শুক্লা স্পষ্ট জানান, ‘‘আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে তাঁর হাত থেকে ট্রফি নেব না। এটা আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল।’’
রাজীব আরও দাবি করেন, ভারতীয় দলের এই সিদ্ধান্তে মহসিন নকভি নিজে কোনো আপত্তি জানাননি। তিনি অন্য আধিকারিকদের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে কোনো ধরনের প্রতিবাদ না করেই নীরবে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। পুরস্কার বিতরণী পর্বের এই টানাপোড়েন এবং গ্যালারির স্লোগান ঘিরে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট কূটনীতিতে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।