ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের দিন শেষ? পুজোর রাশিয়া দখল করতে ময়দানে নামছে শাসক শিবিরের নতুন সংগঠন!

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে চলেছে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব শারদোৎসবে। দীর্ঘ সময় ধরে কলকাতার দুর্গাপুজোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক লিয়াজোঁর দায়িত্বে থাকা ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর প্রভাব ও দাপট এখন অনেকটাই ফিকে। তাদের বিকল্প হিসেবে এবার সরাসরি ময়দানে নামছে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল। পুজো উদ্যোক্তাদের এক ছাতার তলায় আনতে তৈরি হচ্ছে নতুন একটি মঞ্চ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপূজা সমন্বয় সমিতি’। আর এই নতুন সংগঠনের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক ও বিধানসভার তথ্য ও সংস্কৃতি স্থায়ী সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনীল ঘোষকে।

গণেশ চতুর্থীতে প্রথম প্রস্তুতি বৈঠক
সরকারিভাবে নতুন এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ এখনও না ঘটলেও, পর্দার আড়ালে তোড়জোড় যে পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা সোমবারের একটি ঘটনায় স্পষ্ট। গণেশ চতুর্থীর পুণ্য লগ্নেই এই কমিটির প্রথম প্রস্তুতি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকের জন্য যে ই-কার্ড বিলি করা হয়েছে, তাতে আমন্ত্রক হিসেবে নাম রয়েছে রুদ্রনীল ঘোষের। কার্ডের বয়ানে লেখা হয়েছে, “শুভ গণেশ চতুর্থীর পুণ্য লগ্নে পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপূজা উদ্যোক্তাদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে এক অভিনব প্রয়াস। আসুন আমরা সবাই দুর্গাপূজার জন্য এক জায়গায় আসি।” যদিও এই নতুন সংগঠন বা নিজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিধায়ক।

ক্ষমতার বদল ও ফোরামের অস্তিত্ব সংকট
বাংলায় দীর্ঘকাল ধরে পুজোর যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়ের কাজটি করত ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’। সরকার এবং পুজো কমিটিগুলির মধ্যে তারাই ছিল মূল সেতু। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই সেই সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রশাসনিক স্তরে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকেই ফোরামের গুরুত্ব ও দাপট কমার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই শাসক শিবিরের এই নতুন পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও পুজো মহল।

এদিকে, অস্তিত্ব সংকটে ভোগা ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’ আপাতত নীরবতা বজায় রেখেছে। সংগঠনের সভাপতি তথা বেহালার এক জনপ্রিয় পুজোর উদ্যোক্তা সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নতুন সমন্বয় সমিতির বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনও খবর নেই, তাই তাঁরা এখনই কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে এই নতুন সমিতি যে অচিরেই ফোরামের জায়গা দখল করতে চলেছে, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত প্রায় সব পক্ষই।

ধন্দ ও প্রস্তুতি
দুর্গাপুজো আসতে আর মাত্র এক মাস বাকি। নতুন এই সমন্বয় সমিতির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে চলতি বছরের পুজোয় এই সংগঠন কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের অন্দরে কিছুটা ধন্দ রয়েছে। তবে পুজোর ময়দানে শাসকদলের এই নতুন চাল যে পুরনো ফোরামের ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চিত করে তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *