নন্দীগ্রামের আসন কংগ্রেসকে ছাড়তে রাজি মমতা! বিনিময়ে বড় মাশুল দাবি তৃণমূলনেত্রীর

বিধানসভা উপনির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন পটপরিবর্তন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটের রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিজেপির বিরুদ্ধে হার বাঁচাতেই কি কংগ্রেসের শরণাপন্ন হলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? জল্পনা উসকে এআইসিসির (AICC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপালকে ফোন করে জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তবে মমতার এই মাস্টারস্ট্রোক ভেস্তে দিয়ে পাল্টা শর্ত চেপে বসেছে কংগ্রেসের অন্দরে।

মমতার প্রস্তাব এবং কংগ্রেসের পাল্টা বাণ

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস নেতৃত্বকে প্রস্তাব দেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক নন্দীগ্রামে কংগ্রেস যদি নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করায়, তবে তৃণমূল সেখান থেকে সরে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে সমর্থন দেবে। বিনিময়ে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে সমর্থন জোগাতে হবে কংগ্রেসকে।

তবে মমতার এই প্রস্তাব সোজাসুজি খারিজ করে দিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। রাজনৈতিকভাবে বেশ কিছুটা চাপে থাকা তৃণমূলের দেওয়া শর্তে রাজি না হয়ে কংগ্রেস পাল্টা দাবি তুলেছে, কেবল নন্দীগ্রাম নয়, রেজিনগর আসনটিও কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে হবে। বঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নীতিগত ও আদর্শগত দিক থেকে কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন, যে কেউ কংগ্রেসকে সমর্থন করতে চাইলে তাঁকে আমরা স্বাগত জানাই।”

কেন হঠাৎ কংগ্রেসের দরবারে মমতা?

নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনটি বিজেপি নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ওপর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবিরের প্রার্থী দেওয়ার পর থেকেই ব্যাকফুটে রয়েছে কালীঘাট। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করালেও সেখানে বিরোধী ভোটভাগাভাগির জেরে তৃণমূল শিবিরের মুখ পোড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সেই পরাজয়ের গ্লানি এড়াতেই নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে উপঢৌকন দিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি ও চতুর্মুখী লড়াই

ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রেই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে সমস্ত দল। নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফিকে লড়াইয়ে নামিয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে দাঁড় করিয়ে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ফাটল ধরানোর ছক কষেছে।

একসময়ের জোটসঙ্গী কংগ্রেসের সাথে অতীত সম্পর্ক তিক্ত করে দল ভাঙার ইতিহাস থাকলেও, রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়ে মমতা যেভাবে হাত শিবিরের দ্বারস্থ হয়েছেন, তা নিয়ে হাসির রোল উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। উপনির্বাচনের আগেই কালীঘাট শিবিরের এই টালমাটাল অবস্থা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *