‘প্রচুর বুদ্ধি, কিন্তু এমন জিনিস বেরিয়ে এল!’ নাম না করে ঋতব্রতকে কোন খোঁচা কল্যাণের?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির—দুই পক্ষের মধ্যেই জোড়াফুল প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে চলছে তীব্র লড়াই। এই জল গড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এমন টানাপোড়েনের মাঝেই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বৈধ প্রতীক নিয়েই লড়াইয়ে নামছেন।
আইনি লড়াই ও প্রতীকের অধিকার
ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের কাড়াকাড়ির জেরে বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। এই বিষয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে প্রতীক বৈধভাবে দিয়েছে, তাঁরা সেই প্রতীককেই সামনে রেখেই মনোনয়ন দাখিল করবেন। ১৬ তারিখের মধ্যে সমস্ত প্রতীক জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে। ফলে কমিশনের পক্ষ থেকে অন্য কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা এই ঘাসফুল প্রতীকই ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন সাংসদ।
ঋতব্রতকে নাম না করে তীব্র কটাক্ষ
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র প্রতীক সংক্রান্ত আইনি কথাই বলেননি, পাশাপাশি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। নাম না করে তাঁকে কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, ওই নেতার নাকি প্রচুর বুদ্ধি ও পড়াশোনা রয়েছে, যা দেখে খোদ তাঁর প্রাক্তনী বা পরিচিত মহলও অবাক হয়ে যাচ্ছে। দল ভাঙানোর এই রাজনীতিতে ঋতব্রতের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
স্পিকারের ভূমিকা ও সুপ্রিম কোর্টে লড়াই
উল্লেখ্য, ঋতব্রতপন্থী বিদ্রোহী বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ করার দাবি জানিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে আবেদন জানিয়েছিল কালীঘাট শিবির। তবে সেই চিঠির ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে দল। সব মিলিয়ে, আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে দুই শিবিরের এই প্রতীক যুদ্ধ ও আইনি লড়াই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।