সমুদ্রের বুকে ভয়ানক হামলা! ওমান উপকূলে তেলের ট্যাঙ্কারে মিসাইল বা ড্রোন হানায় নিখোঁজ ভারতীয় নাবিক

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জলপথে ফের চরম আতঙ্ক তৈরি হলো। ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় জাহাজটিতে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও একজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)।
এই আন্তর্জাতিক ঘটনার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক একনজরে দেখে নিন:
-
আক্রান্ত জাহাজ ও ক্রু মেম্বার: যে বাণিজ্যিক জাহাজটিতে হামলা হয়েছে তার নাম ‘এমটি এল গাইয়া’ (MT El Gaia)। পানামার পতাকা বহনকারী এই কেমিক্যাল ও অয়েল ট্যাঙ্কারটিতে ১৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।
-
উদ্ধারকার্য ও নিখোঁজ খোঁজ: ওমান উপকূলে হামলার পরপরই দ্রুত উদ্ধারকার্য চালিয়ে ১৩ জন ভারতীয়কে সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে নিখোঁজ ১ ভারতীয় নাবিকের সন্ধানে ওমান প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।
-
দিল্লির কড়া নিন্দা: আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নিরীহ নাবিকদের ওপর এ ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। অবিলম্বে এই অঞ্চলে যুদ্ধংদেহী মনোভাব থামিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
-
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রস্তাব: ঠিক এই ঘটনার একদিন আগেই ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বজুড়ে কর্মরত নাবিকদের রক্ষায় একটি জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা বা ‘সিফেয়ারার্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন।
-
ভারতীয় নাবিকদের ওপর বড় ঝুঁকি: বিশ্বজুড়ে মার্চেন্ট শিপিং চালনায় ফিলিপিন্সের পরেই ভারতের অবদান সর্বাধিক (প্রায় ১২ শতাংশ)। তবে পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরের সংঘাতে বারবার ভারতীয় নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ায় কেন্দ্র সরকারের উদ্বেগ এখন বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের রুটি-রুজির প্রধান মাধ্যম এই জলপথগুলিতে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়!